নেতানিয়াহুর সফরে প্যারিসের রাজপথে বিক্ষোভ

নেতানিয়াহুর সফরে প্যারিসের রাজপথে বিক্ষোভ

‘জেসিপিওএ’ স্বাক্ষরকারী দেশগুলোতে সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ফ্রান্সে পৌঁছান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এদিন তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে সফর বাতিলের জন্য বিক্ষোভ করছে রাজধানী প্যারিসের জনসাধারণ। এ সময় কয়েক হাজার প্যারিসবাসীকে রাজপথে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ফ্রান্সের মানুষের মধ্যে ইসরায়েল বিরোধিতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়। সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জের ধরে তা বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।

ফিলিস্তিনি জনতার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যান্তোনিও বলেন, “গত মাসে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী কর্তৃক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি হত্যার বিষয়টি নেতানিয়াহু ও বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি।”

নেতানিয়াহুর এই সফরের মূলে রয়েছে জেসিপিওএ বা ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে সরে আসতে রাজি করানো। গত আট মে আমেরিকা এই চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইসরায়েল এই তৎপরতা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তিনি চুক্তি বাতিলে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলো মার্কেলের সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বার্লিন থেকে বলা হয়েছে, জার্মানি ইসরায়েলে সুরক্ষার অধিকার সমর্থন করে কিন্তু চুক্তি বাতিলে তাদের অজুহাতকে পর্যাপ্ত মনে করে না।

এছাড়াও এই সফরে নেতানিয়াহু ও ম্যাক্রন ফরাসি-ইসরায়েলি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন।

এ সময় প্যারিসের রাস্তায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলের নিষ্ঠুর আচরণ এবং গাজা সীমান্তে ইসরায়েলের সেনাদের নির্বিচারে গুলি চালানোর তীব্র সমালোচনা করা হয়।

বিশ বছর বয়সী মেডিকেলের ছাত্রী ইয়াসমিন বলেন, “ফিলিস্তিনি নার্স রাজান আল-নাজ্জারকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করায় আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এই হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।” গত পহেলা জুন গাজা সীমান্তে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা দেয়ার সময় রাজানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। র‌্যালিতে তার রাজানের ছবি ব্যবহার করে নানান স্লোগান দিতে থাকে।

ফ্রান্সে প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য জ্যাকস বলেন, “ইসরায়েলে যুদ্ধাপরাধের কারণে আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত।” তিনি আরও বলেন, “আজকে (গতকাল) ম্যাক্রন ও নেতানিয়াহু ফ্রান্স-ইসরাইল সেশনের উদ্বোধন করছেন, যা একটি কলঙ্ক কারণ এর মাধ্যমে ইসরাইল ফ্রান্সের মূল্যবোধকে লঙ্ঘন করছে।” পরিশেষে বিক্ষোভটি গ্রান্ড প্যালাইস এক্সিবিশন হলের সামনে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।