ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ : তাঁর শূণ্যতা কিভাবে পূরণ করবে আওয়ামীলীগ?

ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ : তাঁর শূণ্যতা কিভাবে পূরণ করবে আওয়ামীলীগ?

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্পোকস পারসন ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতা ক্রমেই জটিলতার দিকে মোড় নিচ্ছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও রাজনীতিতে সহসাই ফিরতে পারবেন না। দরকার হবে লম্বা সময়ের। আর এই সময়ে লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়াতে কথা বলার মূল ভূমিকাটি কে পালন করবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয় বলে জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওলজি বিভা‌গের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান।

তিনি সাংবাদিকের জানান, ‘এই মুহূর্তে তাঁকে (ওবায়দুল কাদের) সিঙ্গাপুরে পাঠানো যা‌বে কি না—য‌দি শুন‌তে চান, তাহ‌লে আমি বল‌ব—না। তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো যা‌বে না। মে‌ডি‌কেল বো‌র্ডের সিদ্ধান্ত আছে যে তাঁর যেমন চিকিৎসা চল‌ছে, সেটাসহ আরও সর্বাত্মক চেষ্টা চা‌লি‌য়ে যাওয়া’।

নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় ওবায়দুল কাদের। 

 

সৈয়দ আলী আহসান আরো জানান ‘ওবায়দুল কাদেরের যে রক্তনালীটা সব‌চে‌য়ে বে‌শি ক্রি‌টিক্যাল  ছিল, আমরা শুধু সেটাই ঠিক ক‌রে‌ছি। কিন্তু সেটা বোধ হয় পর্যাপ্ত নয়। কারণ তিন‌টি নালী প্রয়োজন হয় রক্ত সরবরা‌হের জন্য। কিন্তু এই মুহূ‌র্তে সেগুলো সারা‌নো যা‌বে না। সেগুলো ঠিক কর‌তে গে‌লে আ‌রও বিপদ ঘট‌বে। যে নালীটা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, ওই নালীটা ঠিক করার পর তাঁর প‌রি‌স্থি‌তি অনেকটা উন্ন‌তির পর্যা‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল। কিন্তু এখন অবস্থার এই উন্ন‌তি হয়-অবন‌তি হয়, এমন অবস্থা চল‌ছে। দেশবাসী, আপনারা তাঁর জন্য দোয়া ক‌রেন, আমরা চেষ্টা কর‌ছি। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না য‌াওয়া পর্যন্ত তাঁর অবস্থা স্থি‌তিশীল বলা যা‌চ্ছে না।’

এমন অবস্থায়  এটা প্রায় নিশ্চিত যে জনাব কাদের সহসাই ফিরতে পারছেন না রাজনীতির মাঠে। এই শূণ্যতা কিভাবে পূরন করবে আওয়ামীলীগ তা নিয়েও ইতমধ্যে শুরু হয়েছে আলাপ-আলোচনা। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরে দেশে-বিদেশে এই সরকার সব রকম গ্রহণযোগ্যতা হারালেও মিডিয়াতে প্রতিনিয়ত বক্তব্য দিয়েই একরকম টিকে থাকছে লীগ সরকার। আর এই বক্তব্য প্রদানের মূল কন্ঠস্বর ছিলেন ওবায়দুল কাদের। এখন প্রতিনিয়ত এক একজন মন্ত্রী-এক এক রকম কথা বলার ঝুকি দেখা দিয়েছে। এর আগেও দেখা গেছে একই ইস্যুতে এক এক নেতা এক এক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে মূল স্পোকস পারসন ছাড়া দলটির অবস্থা আরও বেহাল হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। অন্যদিকে কেউ কেউ ভাবছেন সিনয়র নেতাদের পাশ কাটিয়ে এবং ১/১১ র ভূমিকার কারণে অনেক হেভি ওয়েট নেতাও সাধারণ সম্পাদক বা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সহজেই বিবেচনায় আসতে পারবেন না। যদিও এখনই কিছুই নিশ্চত করে বলা যায় না। আবার চমক হিসেবে হয়তো দেখা যাবে কোন নারীকে সাধারণ সম্পাদক করা হচ্ছে। তবে সবই অনুমান। শেষ পর্যন্ত কি হয় দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু এটা নিশ্চিত এই অসুস্থতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে কাদের অধ্যয়ের সমাপ্তি হতে চলেছে। অন্যদিকে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খরব নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিকৃয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। তিনি সুস্থ্য হয়ে সুস্থধারার রাজনীতিতে ফিরুক এটাই এখন সবার চাওয়া। তবে তাঁর অবর্তমানে কে হবেন সাধারণ সম্পাদক বা ভারপ্রান্ত সাধারণ সম্পাদক তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনা। তবে এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কিছুই জানা যায়নি। এখন মূলত চিকিৎসাই মিডিয়ার মূল ইস্যু। তবে পর্দার আড়ালে এখনই হিসেব মিলাতে বসে গেছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা। কাদের যে ভাবে প্রতিনিয়ত ভয়েস দিয়ে দলটির অগণতান্ত্রিক কাজগুলোকেও নাটকীয় ভাবে হাজির করেছেন সেই শূণ্যতা কে পূরণ করবে এটাই এখন দেখার বিষয়।