আফ্রিকান দেশ তিউনিশিয়ায় বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। সে দেশের আইনের ১৮ অনুচ্ছেদ মতে বহুবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। একারণেই তিউনিশিয়ায় বহুবিবাহ একটি নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবেই গণ্য হয়। তবে এই আইনের বিরুদ্ধে এবার আন্দোলনে নেমেছে সে দেশের নারীরা। সামাজিক যোযাগোগের মাধ্যমে একটি সক্রিয় নারী শ্রেণি এই আন্দোলনের ডাক দেয়।
এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন সে দেশের সামাজিক সংগঠন ‘ফোরাম অফ ফ্রিডম অ্যান্ড সিটিজেনশিপ’র সভাপতি ফাতি আল-জ্বাল (Fathi AL-Zghal)। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে তিনি জানান “আন্দোলনটি স্বতফূর্তভাবে শুরু হয়েছে। আইনত এই অবিবাহ সমস্যা দূর করার জন্য চেষ্টা করা হবে।” এদিকে আল খালিজ অনলাইনকে দেওয়া আর একটি বিবৃতিতে তিনি জানান, তিনি আন্দোলনের ঘোষক না হলেও তিনি আন্দোলনটিকে সমর্থন দিয়েছেন। তার মতে এই এক বিবাহ আইন ও কুমারিত্বের উভয় সংকটের সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিৎ।
তিনি আরও জানান এক বিবাহ আইনের বিষয়ে তিনি লেখালেখিও করবেন। এছাড়াও নারীদের উপপত্নী হওয়ার অধিকার নিয়ে যে পার্সনাল সেট কোড- একটি আইনগুচ্ছ আছে সে ব্যাপারেও লিখবেন তিনি। ব্যাপারটি শুধুই বহুবিবাহ এমন না। তার বিশ্লেষণে তিনি অযৌক্তিক বিবাহ বিচ্ছেদ ও দত্তকনীতির বিষয়গুলিও আনবেন। ঐ আইনের অনেক বিষয়ই শরিয়া আইনের পরিপন্থী।
ফাতি আল জ্বাল আরও বলেন, এই আন্দোলনে নারীদের সম্পৃক্ততা সরকারকে বুঝিয়ে দিবে যে বহুবিবাহ প্রথা না রাখাটা কতটা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের সাথে কোন রাজনৈতিক দল বা আদর্শের কোন সম্পর্ক নেই।”
এই আন্দোলনটি সারা দেশে একই সাথে আলোড়ন ও বিতর্কের ঝড় সৃষ্টি করেছে। যদিও বেশিষর ভাগ মানুষই এই আন্দোলনের পক্ষে নয় তবুও যারা শরিয়া আইন চায় তারা তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে ইসলামিক সভ্যতার গবেষক সামি ব্রাহাম বলেন “যে সকল অবিবাহিত নারী বিবাহ করার সুযোগ হারিয়েছেন তারা বহুবিবাহের সুযোগ আসলে বিবাহিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে। এটাই তারা ভাবছে। তবে আমার মনে হয় এটা উলটো হবে। একজন পুরুষ হিসেবে আমি যা বুঝি তা হল পুরুষেরা বিবাহকে যদি দানশীল বা উদার কাজ হিসেবে না নেয় তবে তারা এই সুযোগে আরো কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করার সুযোগ পাবে”।
তবে এই বিষয়ে অনেকেরই দাবি নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামের বহুবিবাহের ধর্ণা দিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে কোন রাজনৈতিক মহল। অনেক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের মতে, এভাবে শরিয়ার দোহাই দিয়ে একটি উচ্ছৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করাটা শয়তানের কাজ। তিউনিশিয়ার চৌকস জনগণ এহেন দাবি মেনে নেবে না।
এদিকে ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ তিউনিশিয়ান ওমেন’র সভানেত্রী রাদিয়া দির্জেবি জানিয়েছেন পার্সোনাল স্ট্যাটাস কোড এর আইন সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কোন আন্দোলনের মাধ্যমে তা পরিবর্তনীয় নয়। তার মতে বহুবিবাহের জন্য আন্দোলনটি একটি পাগলামি মাত্র।
অন্যদিকে সে দেশের জাতীয় পরিবার অধিদপ্তরের তথ্য মতে জানা গিয়েছে, সে দেশের অনিচ্ছায় বা জোরপূর্বক বিবাহের হার ৬০ শতাংশ। যে কোন আরব দেশের থেকে এই হার অনেক বেশি। আরও কিছু তথ্যে জানা গিয়েছে, সেদেশে ৪৯ লক্ষ নারীর মধ্যে প্রায় ২২.৫ লক্ষ নারী অবিবাহিত। ১৯৯৪ সালের পর থেকে কুমারী নারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৯ লক্ষ। সে দেশের ২৫-৩৫ বছরের নারীদের মধ্যেই অবিবাহিতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ডিসেম্বরে হওয়া একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা থেকে জানা যায় সর্বোচ্চ অবিবাহিত নারীর সংখ্যার তালিকায় আরব দেশগুলোর মধ্যে তিউনিশিয়া চতুর্থ ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম।