একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার জয়ে ভোটাররা দমনের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে। ‘তার সর্বত্র হুমকি’র শিকার হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে মানুষের ভীড় দেখা যায়, যারা ভোট দিতে এসেছেন। কিন্তু মূলত ভোট দিতে পারছেন না। বলা হচ্ছে এখন ‘লাঞ্চ ব্রেক’ আবার বিকাল ৩ টা ১০ মিনিটে বাজেই একজন পুলিশ সদস্য জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়ে গেছে। এরকম দৃশ্য দেশের প্রায়ই ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে।
তারপর সোমবার অফিসিয়াল ঘোষণা আসে যে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। এবং ৩০০ আসনের ২৮৮টি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। পক্ষান্তরে প্রধান বিরোধীদল পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন।
নির্বাচনে এমন সরকারি হস্তক্ষেপ এবং সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। যেখানে, “কেউ কি বলবেন আমার ভোটটি কি দেয়া হয়েছে? যদি হয়ে যায় তাহলে আমি আর এই সকালে ঘুম থেকে উঠতে চাই না”—এমন মন্তব্যও করতে দেখা গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো হতাশার সঙ্গে জানিয়েছে যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ হওয়ার পর থেকে অনুভূতি প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিতসহ সরকারের সমালোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকরাও সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে পারছে না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বা তাদের অপছন্দ হচ্ছে এমন সংবাদ প্রকাশ করতে দিচ্ছে না তারা। কোন কোন সময় সংবাদ সংশোধন করতে করতে তিন ভাগের দুইভাগই থাকছে না।
এতকিছুর পরেও নির্বাচন কমিশনার হেলালুদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে এটি একটি ‘প্রহসন’।