ট্রাম্পের সাথে পুনরায় বৈঠকে বসতে রাজি, জানালেন কিম জং উন

ট্রাম্পের সাথে পুনরায় বৈঠকে বসতে রাজি, জানালেন কিম জং উন

নতুন বছরের শুভেচ্ছা ভাষণে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে পুনঃবৈঠক করার কথা বললেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ত্রিশ মিনিটের এই ভাষণটি সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হয়। কিম জানিয়েছে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করার নৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে এর সাথে তিনি আমেরিকাকে এও হুশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি আমেরিকা তাদের কথা মত নিষেধাজ্ঞা নিয়ন্ত্রণ না করে তবে তারা তাদের গৃহিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার ভাববে।

কিম বলেন “আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আনতে যাচ্ছি। আমাদের কাছে আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাটাই সবচেয়ে জরুরি। তবে নতুনভাবে যেন আমেরিকা আমাদের উপর কোন চাপ প্রদর্শণ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার চিন্তাও না করে। আমাদের জনগণের ধৈর্য্যশক্তি আর আমাদের বাহিনীকে আমেরিকা ছোট করে দেখে যেনো ভুল না করে।”

গত বছর জুন মাসে ট্রাম্পের সাথে হওয়া বৈঠক নিয়েও কথা বলেন তিনি। উক্ত বৈঠকটিকে ফলপ্রসূ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। কিম বলেন “ঐ বৈঠক টি ছিল ফলপ্রসূ এবং আমরা নানা গঠনমূলক অভিপ্রায় নিয়েও আলাপ করেছি।” ঐ বৈঠকে দুই নেতা কোরিয়া অঞ্চলে পারমাণবিক কর্মসূচি রোধে অস্পষ্টভাবে আলোচনা করেন। কিন্তু এরপর আবারো পিংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের একই বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

কিম আরো বলেন “আমি ভবিষ্যতে আবারো ট্রাম্পের সাথে বসতে রাজি আছি। আমরা সেই সকল সিদ্ধান্ত একসাথে নিতে রাজি যা আন্তর্জাতিক মহল গ্রহণ করবে।” কিম আশা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বদলে আমেরিকা তাদের উপর থেকে সব রকমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে।  

তাঁর দীর্ঘ ভাষণে তিনি কোরিয়ার জণগণের উন্নতি এবং জ্বালানি সংকট মোকাবেলার উপর কথা বলেন। তিনি জানান এই দু’টি বিষয়ের উপরেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যেও কথা বলেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে আহ্ববান জানান যে তারা যেন বাহিরের কোন শক্তির সাথে যৌথ সামরিক কর্মসূচি এবং মহড়া বন্ধ করে। উল্লেখ্য দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ সামরিক চুক্তি দ্বারা আবদ্ধ রয়েছে। তিনি তার ভাষণ শেষের আগে এই আশাবাদও ব্যাক্ত করেছেন যে সকল ভেদাভেদ ভুলে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এক হয়ে শিল্পকেন্দ্রও তৈরিতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে কিমের এই ভাষণটি ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য আশাব্যাঞ্জক।