ফুটবলার মরিনহোর চেয়ে কোচ মরিনহো বেশি আলোচিত। কখনও পোর্তোরকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর মত দুঃসাধ্য সাধন করে আবার কখনোবা বেফাঁস কোনো মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই কোচ। যাকে পুরো ফুটবল বিশ্ব ‘স্পেশাল ওয়ান’ বলে এক নামে চিনে। ছোট খাটো গড়নের এই মানুষটার পাগলামি দেখে তাকে ক্ষ্যাপা মনে করলে ভুল কিছু হবে না তবে বাস্তবিক অর্থে মরিনহো একজন আরাম প্রিয় ও বিলাসী মানুষ। যার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে ২০১৬ সালে তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয়ার পর। লন্ডনে ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ক্রয় করা দৃষ্টিনন্দন একটি বাড়ি আছে রেড ডেভিলস বস মরিনহোর তবে রেড ডেভিলস শিবিরে যোগ দেয়ার পর সে বাড়িতে থাকেন না মরিনহো। তার পুরো পরিবার সেখানে থাকলেও মরিনহো থাকেন ম্যানচেস্টারের অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল লোরিতে।
যেখানে সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয়ার পর থেকেই আছেন। ২০১৬ থেকে ২০১৮ এখন পর্যন্ত সেই হোটেলে থাকার জন্য মরিনহোকে গুনতে হয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার পাউন্ড প্রায়। যেখানে যুক্তরাজ্যে ২.৫ লাখ পাউন্ড খরচ করলে নিজের জন্য একটি বাড়ি ক্রয় করা সম্ভব। লন্ডনে পরিবার থাকা সত্ত্বেও মরিনহোর হোটেলের এমন বিলাসবহুল জীবন অতিবাহিত করতে দেখে অনেকেই অবাক হন। তবে এ ব্যাপারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্তৃপক্ষরা বলেছেন পরিবার সাথে না থাকাটা অবশ্যই কষ্ট দিতো মরিনহোকে তবে তিনি হোটেলের আরাম -আয়েশের সুব্যবস্থায় থাকায় সন্তুষ্ট। হোটেল লোরি যে যেন তেন হোটেল নয় তা হোটেলে নামীদামী ব্যাক্তিদের আনাগোনা থেকে স্পষ্টত বুঝতে পারা যায়। এ হোটেলে বিভিন্ন সময় এসে উঠেছিলেন ইংলিশ জনপ্রিয় গায়ক জাস্টিন বিবার, রিটা ওরা, রবে উইলিয়ামসদের মত বিখ্যাত জনপ্রিয় ব্যাক্তিরা। এছাড়াও এটি ব্রিটেনের অন্যতম সিনেমার শ্যূটিং স্পট। চাঁদের ও কলঙ্ক আছে, সেখানে হোটেল লোরির কলঙ্ক না থাকাটা বেমানান। তাই হোটেল লোরিও আছে কলঙ্কিত অধ্যায়ে। ২০১০ সালে ওয়েন রুনি যে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ছিলো সেটা এ হোটেলেই।

হোটেল লোরিতে যে মরিনহো বেশ আয়েশি জীবন পার করছে সেটা তার চাল চলনে লক্ষনীয়। মরিনহো হোটেলের যে রুমটিতে থাকেন সেটি প্রায় ৯০ স্কয়ার ফুট আকৃতির একটি কক্ষ। যেখানে তার ব্যবহারের জন্য দু’টি বিশাল টেলিভিশন দেয়ালে যুক্ত করা আছে। কিংবা তার রান্নার জন্য আছে সু-সজ্জিত রান্না ঘর। মেহমান আসলে তার আপ্যায়ন করার জন্য একটি পানশালাও রয়েছে। রুমের সাথে যুক্ত আছে একটি রিভার সাইড স্যুইট ও। তার ঘুমানোর জন্য রুমটিতে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি দুগ্ধফেননিভ ন্যায় বিছানাও। সব মিলিয়ে যেন এক এলাহিকাণ্ড ব্যাপার।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ইস্তফা দেয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো কোচ বড় কোনো সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেনি রেড ডেভিলসদের। তাই শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের সিজনের শুরুতে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব তুলে দেন ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মরিনহোর হাতে। হয়তো তার উপর আস্থা ও প্রত্যাশা দুটোই বেশি বলে তার মন রক্ষার জন্য তাকে দেয়া হচ্ছে রাজকীয় সুযোগ সুবিধা দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আবার অন্যদিকে মোরিনহো এখন পর্যন্ত ৮বার দল বদল করেছেন এবং কোথাও টানা ৩ সিজনের বেশি থাকেননি তাই হয়তো আবার বাড়ি বছর তিনেকের জন্য ঝামেলা বাড়াতে চায়নি এই পর্তুগিজ।
কারণ যেটাই হোক, মরিনহো যে কোচিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জীবন যাপনের ক্ষেত্রে আভিজাত্য ও বিলাসী স্বভাবের মানুষ তা তার চাল চলনে বেশ ভালোভাবেই সকলকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।