সিআইএ এবং তুরস্ক তাদের প্রতিবেদনে খাশোগি হত্যা ঘটনায় প্রথম এবং প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম উল্লেখ কের। তুরস্ক সরাসরি সালমানকে খাশোগির হত্যার আদেশেদাতা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তারপরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে খাশোগির হত্যায় সালমানের জড়িত থাকা না থাকা নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় আড়াইমাস আগের ওয়াসিংটন পোস্ট’র কলামিস্ট খাশোগির হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন আমেরিকার সিনেটররা।
ওভাল অফিসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সে (সালমান) সৌদি আরবের নেতা। তারা সবসময়ই আমাদের খুব ভালো বন্ধু।”
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায় রয়টার্সের একজন সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করে যে সৌদি আরবের পাশে থাকা মানেই যুবরাজের পাশে থাকা কিনা। এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, এ সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই তাই।”
এর পরেই বিশ্বে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি আরো বলেন “যুবরাজ খুব তীব্রভাবেই অস্বীকার করেছেন।”
এই বিষয়ে আগেও নিরব ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সালমানকে সমর্থনও যুগিয়েছেন। এই কারণে রিপাবলিকান দলেরই অনেক সিনেট সদস্য তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশেষ করে সিআইএ ডিরেকটর জিনা হাসপেল তার প্রতিবেদন দেওয়ার পর থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। গতমাসে সিআইএ খাশোগির হত্যাকারী হিসেবে সালমানকে চিহ্নিত করে এবং একটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনকে ট্রাম্প “ছেলেমানুষি” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্পের বন্ধু প্রতিম একজন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম গত সপ্তাহে বলেন, “সালমানই যে খাশোগি হত্যার মূল নির্দেশদাতা এবং সবকিছুই তার পরিকল্পনায় হয়েছে এমন অন্ধবিশ্বাস থেকে আপনাদের বের হয়ে আসা উচিত।”
দ্বি-দলীয় সিনেটরদের একটি অংশ গত সপ্তাহে সিনেটে একটি রিসোলিউশনের প্রস্তাব করেছেন যেখানে সালমানকেই খাশোগি হত্যার মূল নির্দেশ দাতা হিসেবে উল্লেখ করার কথা আছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি আশা করবেন আমেরিকার সিনেটররা যেন কোনভাবে সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার প্রস্তাব না করেন। তুরস্কে খাশোগি হত্যার ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এই ব্যাপারে তিনি সোচ্চার আছেন বলেও জানা গিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি আশা করছি কেউ যেন এমন প্রস্তাব না দেয় যে আমরা সৌদির কাছ থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাহলে রাশিয়া আর চীনের হাতে বাজার চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
ট্রাম্প এবং তার কেবিনেট সালমানের বিরুদ্ধে আসে এমন সিআইএ রিপোর্ট ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস গত সপ্তাহে জানিয়েছেন সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় এমন কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।
এদিকে গতমাসে স্বয়ং ট্রাম্প বলেছিলেন যে খাশোগি হত্যার মূল রহস্য উম্মোচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
তার সবচেয়ে সমালোচিত বক্তব্যটি ছিল, “যুবরাজ যদি জেনে থাকেন কি নির্মম ঘটনা ঘটেছে তাহলে ভালো হয়। কাজটি হয়ত তিনিই করেছেন বা করেননি।”
চলতি সপ্তাহে আমেরিকার সিনেট সভায় সিনেটররা একটি যুক্ত প্রস্তাবনা দিতে পারেন যেখানে মোহাম্মদ বিন সালমানকে খাশোগি হত্যার মূল হোতা হিসেবে সাব্যস্ত করা হবে। বিলটি পাশ হলে ওই নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই সই করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সিনেটরদের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি ইয়েমেন এর সাথে সৌদি যুদ্ধে সৌদির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। এ বিষয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক নেতারা সোচ্চার আছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন “আমি ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশি সোচ্চার। ইয়েমেনে এখন যা চলছে তা ঘৃ্ণ্য।