রাশিদা তলিব একই সাথে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে তিনিই প্রথম নির্বাচিত মুসলিম নারী। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে এই পর্যায়ে তিনিই প্রথম আরব-আমেরিকান মুসলিম নারী। এবং সেই সাথে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত হিসেবেও প্রথম। এর আগে কংগ্রেসে দু’জন মুসলিম পুরুষ নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা দুজনই আবার আফ্রিকান-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য।
রাশিদা তলিব মিশিগানে ১৩ তম কংগ্রেসনাল জেলার প্রাথমিক বিজয়ী। তবে পরবর্তী ধাপে তার কোন প্রতিদ্বন্দী না থাকায় তাকে এখনই বিজয়ী বলা হচ্ছে।
২০০৪ সালে স্টিভ টবকম্যানের সাথে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে তিনি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। এ বছরই জন কনিয়ার্সের আসনে লড়বার অভিপ্রায় ঘোষণা করেন তিনি। তার নির্বাচনী তহবিলে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ডলার জমা হয়েছিল। ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডা জনস এবং ওয়েস্টল্যান্ডের মেয়র বিল ওয়াইল্ডকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। আগামী নভেম্বর মাসের নির্বাচনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান নারী কংগ্রেসওম্যান হবেন।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনে ইসলামভীতি ও অভিবাসন বিরোধী মত শক্তিশালী হয়েছে। চলমান নাজুক পরিস্থিতি রাশিদার জয়কে তরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
১৪ জন ভাই বোনের সবার বড় রশিদা তলিব জন্মগ্রহণ করেন ২৪শে জুলাই, ১৯৭৬ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটে এক ফিলিস্তিনি অভিবাসী শ্রমিক বাবার পরিবারে। তার মা পশ্চিম তীরের রামাল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। জেরুজালেমের একটি শহরতলীতে জন্ম নেয়া পিতা প্রথমে নিকারাগুয়ায় অভিবাসী হন, পরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ডেট্রয়েটে। যেখানে তিনি ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কাজ করতেন। তার বাবা ও মা যখন কাজে যেতেন বড় বোন রাশিদাই ছোট ভাইবোনদের দেখভাল করতেন।