বুধবার দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান মিডিয়াকে জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বন্দি খালেদা জিয়ার আদালতে দেয়া জবানবন্দিগুলো বই আকারে প্রকাশ করছিল একটি মহল।
‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে ওই বইয়ে আদালত বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে খালেদার জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য সংযোজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের দাবি এই বইতে বিভিন্ন অসত্য তথ্য রয়েছে। এ অপরাধে ৪৮৫টি বইসহ আব্দুর রহমান নূর রাজন (৩২) ও মেহেদী আরজান ইভান (৩৭) নামে দু’জনকে আটক করে র্যাব-১০।
মিডিয়াকে তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য গোপন করে আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে মিথ্যা, বিকৃত ও অসত্য তথ্য সম্বলিত একটি বই সিলেটের একটি প্রেসে ছাপিয়ে ঢাকায় বাজারজাত করতে চেয়েছিল একটি মহল। আদালত সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
আগে থেকেই পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর-১০ নম্বরের এসএ পরিবহন থেকে সংগ্রহকালে ৫ কার্টন বইসহ রাজনকে আটক করা হয়। তিনি জানান, বইটি ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন মেনে প্রকাশ করা হয়নি। তার সহযোগী হিসেবে ইভান, ওয়াসিম ইফতেখারুল হক, শিপন মোল্লা, বৈরাম খাঁ ওরফে রেজওয়ানুল হক শোভন ও আব্দুর রব চৌধুরী কাজ করছিল। আদালতের অনুমতি ছাড়াই তারা একে অপরের সহায়তায় বিচারাধীন একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ এক আসামির জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করে কতিপয় সুশীল সমাজের মন্তব্য সন্নিবেশ করে তা গোপনে বই আকারে প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক রাজন ও ইভান মূলত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাইবার অ্যানালিস্ট। তাদের কাছ থেকে জব্দ মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে ফেসবুকে উসকানির বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা আরও কেউ জড়িত আছে কিনা বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে বলেও জানান কাইয়ুমুজ্জামান খান।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের ছয় মাস পূর্ণ হল আজ ৮ আগস্ট (বুধবার)। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপির ঐক্যে ফাটল না ধরলেও তার (খালেদা) মুক্তি আন্দোলন ততটা ত্বরান্বিত করতে পারেননি দলের নেতাকর্মীরা। দলটি নিয়মিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিলেও সরকারের ওপর তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের দায়িত্বশীলরা বলছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া তাদের দল ও জোট অনেকটাই অভিভাবকহীন। প্রিয় মানুষকে দূরে রেখে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। তবে নেতাকর্মীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী দিনে সংঘবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন এবং তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেবেন।