গ্রেফতার আতঙ্কে সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশে বাধাসহ প্রতিবাদে অংশ নিতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধনে অংশ নিয়ে একথা জানিয়েছেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুর ১২টায় অনুষদ প্রাঙ্গণে তারা এই মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবি আমাদের সকলের। স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নেমে তাদের অধিকার চেয়েছিল। তাদের এমনভাবে দমন করা হল যে গ্রেফতার আতঙ্কে আমরা এর কোন প্রতিবাদ করতে পারছি না। এই গণতান্ত্রিক দেশে আমাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। এটা কেমন গণতান্ত্রিক দেশ? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, এটা কি সেই বাংলাদেশ? আমাদের কোনও বাক-স্বাধীনতা নাই। আমরা এর প্রতিকার চাই।
মানববন্ধনে ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে সাপোর্ট আশা করছি। শিক্ষকদের দায়িত্ব হবে ছাত্রদের পাশে থাকা; কিন্তু তারা ভয়ে থাকতে পারছেন না। কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চেয়ে ছাত্ররা বেশি শক্তিশালী?’
চলমান আন্দোলন নিয়ে আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে আন্দোলনকারী ও সরকার সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সর্বশেষ গতরাতে বুয়েটে এক ছাত্রকে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আজ জানিয়েছেন তারা সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দিতেও বাধার মুখে পড়ছেন তারা।
মতপ্রকাশে বাধা আসছে অভিযোগ করে ফাইন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, কাদেরকে আমরা ভয় পাচ্ছি? কেন ভয় পাচ্ছি? আমরা কিছু বলতে চাচ্ছি, অথচ আমাদেরকে বাধা দেয়া হচ্ছে! গণতান্ত্রিক দেশে বাস করার সত্ত্বেও রাজপথে কিংবা সামাজিক মাধ্যমেও আমরা আমাদের মত প্রকাশ করতে পারছি না।

২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় সড়কে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দেয় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকায় আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের টানা ৯ দিনের আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও সরকার দলীয় লোকজন তাদের ওপর বেশ কয়েকবার হামলা চালায়। এ পর্যন্ত হামলাকারীদের বদলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩৪ টি মামলা দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।