বেলজিয়ামে শেষ ব্রাজিলের স্বপ্ন

বেলজিয়ামে শেষ ব্রাজিলের স্বপ্ন

ব্রাজিল                   ১-২      বেলজিয়াম
রেনেটো আগুস্তা ৭৪’           ফার্নান্দিনহো (আ) ১৩’
ডি ব্রুইনি ৩১’

• ব্রাজিল-বেলজিয়ামের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম ম্যাচ। ১৯৬৩ সালের প্রথম ম্যাচটিতে বেলজিয়াম জিতলেও বাকি তিনবারই জিতেছিল ব্রাজিল।
• সর্বশেষ তিন বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের বিদায় ঘটেছে কোনো না কোনো ইউরোপীয় দলের হাতে। অপরদিকে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল বেলজিয়াম।
• এটি নিয়ে টানা ২৪ ম্যাচ অপরাজিত বেলজিয়াম।

বেলজিয়ামে শেষ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ। কাজানে নেইমারদের কাঁদিয়ে বেলজিমায়ের ফুটবলের সোনালীতম দিনটি উপহার দিলেন হ্যাজার্ড-ডি ব্রুইনিরা। বিস্ময়ের বিশ্বকাপে বিদায় আরো একটি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের।

মার্সেলো-ডগলাস কস্তা ফিরলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে ছিলেন না ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার নিউক্লিয়াস কাসেমিরো। এ শূন্যস্থান পূরণে তিতের ট্যাক্টিস মার খেয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের একটি মাস্টার স্ট্রোকে। নেইমারকে কয়েদি বানিয়ে রাখার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ফেলাইনিকে। দলের মূল খেলোয়াড় অকেজো হয়ে পরায় সে অর্থে কোনো সফলতা অাসেনি। তবে এর দায় যে পুরোটা নেইমারের তাও না। কর্ণার থেকে পাওয়া সুবর্ণ দুটো সুযোগ হেলায় হারিয়েছে ব্রাজিল। অপর দিকে পাল্টা আক্রমণে বারবারই ভয় ধরাচ্ছিল বেলজিয়াম। তেমনি একটি পাল্টা আক্রমণের সুফল হিসাবেই আসে প্রথম গোলটি।

ক্যাসিমিরোর বদলে মাঠে নামা ফার্নান্দিনহো সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত উপায়ে উৎসবের মধ্যমণি হলেন বেলজিয়ামের! কর্ণার ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঢুকিয়ে ডেভিলসদের আনন্দে মাতান এই সিটি মিডফিল্ডার। তারপর ব্রাজিল খেলা গুছিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় গোল। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে থাকা ডি ব্রুইনি দুর্দান্ত একটি পাল্টা আক্রমণে লুকাকুর কাছ থেকে পাওয়া বলে চমৎকার একটি শ্যুটে পরাস্ত করেন এলিসনকে। বিরতি পর্যন্ত ২-০ গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।

প্রথমার্ধে নেইমার শ্যুটই নিতে পেরেছিলেন মাত্র একটি। অপর দিকে বেলজিয়ামের মূল তারকা হ্যাজার্ড নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বেলজিয়ামের পাল্টা আক্রমণগুলোর। দু’ দলের দুই মূল তারকার পারফরম্যান্সের বৈপরীত্যই স্কোর বোর্ডে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।

গোলের জন্য মরিয়া তিতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উইলিয়ানের বদলে ফিরমিনহোকে নামান আক্রমণের ধার বাড়ানোর জন্য। ধার বাড়লেই সেটি বেলজিয়াম রক্ষণে ক্ষত সৃষ্টির মত যথেষ্ট ছিল না। ভেটর্গেনকে নাটমেগ করে বোকা বানিয়ে দারুণ একটি আক্রমণের সম্ভাবনা জাগিয়ে নিজেই নষ্ট করেন তিনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ইনজুরি ফেরত ডগলাস কস্তা। মাঠে নেমেই আক্রমণের গতি বাড়াতে সাহায্য করেন তিনি। কোনো দু’ প্রান্ত থেকে মার্সেলো-কস্তা এবং মিড থেকে নেইমার-কৌতিনহো; কারো চেষ্টাই দেখছিল না আলোর মুখ। কখনো নিরেট রক্ষণ দেয়াল কখনো বা ব্রাজিলিয়ানদের ব্যর্থতা শেল হয়ে বিধছিল অগণিত সমর্থকদের বুকে।

শেষ অস্ত্র হিসাবে রেনোটো আগুস্তাকে মাঠে নামান তিতে। শেষ পর্যন্ত তিনিই তিতের মুখে হাসি ফোটালেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। কৌতিনহোর চমৎকার একটি ক্রস দারুণ হেডে জালে জড়িয়ে ব্রাজিলের সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখেন তিনি। একই সাথে আশার পালে হাওয়া দিচ্ছিল দ্বিতীর্ধে দুর্দান্ত খেলা ব্রাজিলের রক্ষণ। বেলজিয়াম এ অর্ধে বলতে গেলে তেমন কোনো সুযোগই পায়নি। বিশেষ করে মিরান্ডা ছিলেন অসাধারণ। কিন্তু এরপরের গল্পটি ব্রাজিলিয়ানদের জন্য শুধুই হতাশার।

ডি ব্রুইনের এই নিপুণ শটটিই ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়

একের পর এক আক্রমণ থেকে দারুণ সব সুযোগ তৈরি করলেও আচমকাই ব্রাজিলিয়ানদের বাকিয়ে যাওয়া পা খুঁজে পায়নি গোল পোস্ট। নেইমার, ফিরমিনহো, কৌতিনহোকে নেই মিস করার দলে? একদম শেষ মুহুর্তে দারুণ এক শ্যুট নিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু তারচেয়েও সুন্দর সেভ করে বেলজিয়ামকে প্রথমবারের মত সেমিতে ওঠার আনন্দে মাতিয়ে তোলেন কোর্তোয়া।

ব্রাজিল ভালো খেলেই হেরেছে। তবে বেলজিয়ামই ছিল যোগ্য। ২৭টি শ্যুটের মধ্যে ১১টি ব্লকই বলে দিচ্ছে কতটা তৎপর ছিল বেলজিয়ামের রক্ষণ। অপর দিকে মাত্র নয়টি শ্যুট থেকে ২ গোল আদায় করা সাক্ষ্য দিচ্ছে বেলজিয়াম কতটা নিখুঁত ছিল সে বিষয়ে।

জাপানের সাথে স্নায়ু যুদ্ধে যেতার পর ব্রাজিল বাধা কৃতিত্বের সাথে টপকানো। এখন আরো বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্ম। মাত্রই তো আর দুটি বাঁধা। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সেটি টপকে প্রথমবারের মত শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব কিছু হবে না।

ম্যাচসেরা : কেভিন ডি ব্রুইনি (বেলজিয়াম)