ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ড্রোন, স্নাইপার রাইফেল ও স্মার্ট ফেন্সের মতো অস্ত্র পরীক্ষা করতে এবং তার বিজ্ঞাপন দিতে গাজা সীমান্তের প্রতিবাদকে ব্যবহার করেছে। ‘হ্যামিউশিম’ নামক মানবাধিকার সংগঠন ও এএফএসসি (আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি) ‘এ ল্যাব অ্যান্ড এ শোরুম’ শিরোনামের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
Last week "Hamushim" a joint program of AFSC and the Coalition of Women for Peace in Israel published a new report titled "A Lab and a Showroom" on the Israeli military's use of new weapons against protesters in #Gaza. https://t.co/CphPixHTQr #GazaUnlocked pic.twitter.com/3jMEHXXmbE
— AFSC (@afsc_org) July 3, 2018
ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচির ডাক দেয়। সেখানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় ইসরায়েল। গাজা সীমান্তের ওই ঘটনা পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “ফিলিস্তিনের উপর দখলদারিত্ব এবং বিশেষভাবে গাজার উপর অবরোধকে অস্ত্র পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি আর্মি যাতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের উপর ফেলা প্রভাবের ভিত্তিতে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের উদ্ভাবিত সামরিক প্রযুক্তি বাজারজাত করতে পারে”।
ইসরায়েলি সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ফিলিস্তিনি সহিংসতার পর পণ্য বাজারজাত করার ইতিহাস রয়েছে। ২০১৪ সালের ইসরায়েলি-গাজার রক্তাক্ত সংঘর্ষ কোম্পানিগুলোকে হার্মেস ৯০০ কোচাভ ড্রোন, হাটজাভ ট্যাঙ্ক শেল এবং এমপিআর৫০০ স্মার্ট বোম্ব বিক্রিতে সাহায্য করেছিল।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ও তেল আবিবকে তাদের নতুন সামরিক প্রযুক্তি প্রমোট করতে সাহায্য করেছে। ফিলিস্তিনিদের দমন করতে তারা ম্যাট্রিক ৬০০ এবং ফ্যান্টম ৩ টিয়ারগ্যাস পরীক্ষার সুযোগ পেয়েছে। তাদের মতে, “ইসারেলি মিডিয়া গ্রেট মার্চ অব রিটার্নের পূর্বপ্রস্তুতি ও মার্চের সময়ের যুদ্ধের সুবিধার দিকে গুরুত্ব আরোপ করেছিল”।
এছাড়াও ‘সি অর টিয়ার’ মূলত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যা সমাবেশ ছত্রভঙ্গের কাছে ব্যবহার করা হয়। অন্য আরেকটি ড্রোন হল ‘শোকো ড্রোন’ যা অত্যন্ত বাজে গন্ধ ও কড়া তরল সম্বলিত বোমা নিক্ষেপ করে। এর ব্যবহার সফল হওয়ার পরই সেনাবাহিনী শত শত বোমা কিনে নেয় বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটির কর্মীরা।
মোলোটোভ ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে ঘুড়ি নামানোর জন্য কিন্তু কর্মীরা দাবি করছে, এটি নিচের মানুষদের আঘাত করার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের দমন করতে স্নাইপার পরীক্ষা করা হয়।