সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ; আশঙ্কা হোয়াইট ওয়াশের!

সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ; আশঙ্কা হোয়াইট ওয়াশের!

• প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩৪
ছয় উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ এবং সিরিজ জয় নিশ্চিত আফগানিস্তানের
• ম্যাচ সেরা : রশিদ খান

দেরাদুনে নিজেদের চূড়ান্ত বিপর্যয়ই যেন দেখলো বাংলাদেশ। টেস্ট পরিবারের নবীনতম সদস্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ম্যাচ এবং সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ। আশঙ্কা হোয়াইট ওয়াশের!

উইকেট উপহার দেয়ায় ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানরা

ম্যাচ বদলায়, বদলায় প্রতিপক্ষ; শুধু বদলায় না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উইকেট উপহার দেয়ার চরিত্র। এক ম্যাচে রান পেলেই সই, তার কত ম্যাচ পর সে ব্যাটসম্যান আবার রান করবেন তা নিয়ে যেন বাজি ধরা যায়। গত ম্যাচে চমৎকার খেলা লিটন এ ম্যাচের শুরুতেই নেই। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে তিনে নেমেও ব্যার্থ সাব্বির। নবীকে অহেতুক তুলে খেলতে গিয়ে উইকেট বিলানোর বিলাসিতাই যেন করলেন তিনি। একই রকম খামখেয়ালি মুশফিকও। চমৎকারভাবে উইকেটে সেট হয়েই যেন ড্রেসিং রুমে ফেরার তাড়া অনুভব করলেন। তড়িৎ গতিতে স্ট্যাম্পিং করার জন্য শেহজাদ হয়ত কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন, তাতে মুশফিকের দায় মোচন হবে? মোটেও না। বরং, ইনিংস বড় করার বদলে ঐ রকম সময়ে ডাউন দ্য ট্র্যাক এ গিয়ে কেন খেলতে হবে সেটির উত্তর বোধয় তিনিই ভালো দিতে পারবেন। একই রকম ভাবে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন মাহমুদুল্লাহ এবং সাকিবও। মাহমুদুল্লাহ প্রথম বলেই মারলেন ছয়, তারপরেও চেষ্টা করেছেন উচ্চাভিলাষী শট খেলতে। ফলাফল? ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে। সাকিবও যেন মুশফিককে আদর্শ মানলেন। পার্থক্য একজন স্ট্যাম্পড অপরজন ক্যাচ। লিটন, সাব্বির, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, সাকিব, সৌম্য এবং মোসাদ্দেক; এই বিশাল ব্যাটিং বহরের মধ্যে দুই অংকের ঘর ছুঁয়েছেন মাত্র তিনজন; সাব্বির, মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহ। এর মধ্যে সাব্বির আর মাহমুদুল্লাহ আবার অাউট হয়েছেন দশের ঘরেই, ১৩ এবং ১৪ করে। বিশের ঘর অতিক্রম করেছেন শুধু মুশফিকই। বাকিদের রান যথাক্রমে ১,৩,৩ এবং ০!

নিঃসঙ্গ তামিমের ব্যর্থ লড়াই

উইকেট আসা যাওয়ার মিছিলে একাই লড়ছিলেন তামিম ইকবাল। শুরু থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে খেলতে থাকা তামিমের তাল কেটে দিলেন নিজের সতির্থরাই। একের পর এক উইকেটের পতন দেখে যেন খোলসে ঢুকে পরলেন দেশ সেরা এই ওপেনার। তাতে কাজের কাজ কিছুই হল না, তামিমও ফিরে গেলেন চল্লিশের ঘরেই।

ব্যাটসম্যানদের নিয়ে স্পিনারদের ছেলেখেলা

তিন স্পিনার মুজিব, নবী এবং রশিদ যেন ছেলেখেলাই করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। তিন জনের বারো ওভারে এসেছে মাত্র ছেচল্লিশ রান। সেটিও ছয় উইকেটের বিনিময়ে। বিশ ওভারের ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় ব্যাটসম্যানরা যদি খাবি খেয়েই কাটান তাহলে স্কোরবোর্ডের হালত কিরুপ হতে পারে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। বাংলাদেশের রানও তাই হল ১৩৪, সেটিও আবু হায়দারের হার না মানা মানসিকতার জন্য। উপমহাদেশের কোনো দল স্পিনে এমন খাবি খাচ্ছে, এটা খুব অদ্ভুত একটি দৃশ্য। সেটির মঞ্চায়নই হল দেরাদুনে, ফুটে উঠল বাংলাদেশের ব্যাটিং দৈন্য।

নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিলেন সৌম্য

ক্রমাগত ব্যর্থ হবার পরেও জাতীয় দলের দরজা যার জন্য সব সময়ই খোলা তিনি হচ্ছেন সৌম্য সরকার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্যর্থতাকেই তার যোগ্যতার মানদন্ড ধরে নিয়েছেন নির্বাচকরা। সে যোগ্যতার আরো একটি চমৎকার প্রদর্শনী দেখা গেল দেরাদুনে। দলের চূড়ান্ত বিপদের সময়ও সামান্য সংযমের পরিচয় না দিয়ে উইকেটটি বিলিয়ে দিয়ে এসে নির্বাচকদের আস্থারই যেন প্রতিদান দিলেন তিনি।

বাউন্ডারিতে অরুচি ব্যাটসম্যানদের, আবু হায়দারে রক্ষা

টি টোয়েন্টির মত মারকাটারি ক্রিকেটে চল্লিশেরও বেশি বল পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি হয়নি বাংলাদেশের ইনিংসে! ব্যাটিং লাইন-আপ শক্তিশালী করার জন্য আটজন ব্যাটসম্যান নিয়ে নেমে এই দৃশ্য উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ! ব্যাটসম্যানদের বাউন্ডারি অনীহার ফলে স্কোরার স্বস্তিতে থাকলেও ধুকছিল বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড। শেষ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দিয়ে বাউন্ডারি কি করে মারতে হয় তা শিখিয়েছেন আবু হায়দার। বিশেষ করে শাপুরের বলে স্ট্রেইটে যে ছয়টি মেরেছেন সেটি ছিল চোখে লেগে থাকার মত।

হাউ ওয়াজ দ্যাট আম্পায়ার?

সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে বোল্ড করার পর মোসাদ্দেক সৈকতের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল যা বলার। বোল্ড করার পরও যেন আম্পায়ের কাছে আবেদন জানিয়ে এক রকম মকই করলেন তিনি। এর কারণও আছে বৈকি। ব্যাটসম্যানদের নিদারুন ব্যর্থতার পরেও বেশ ভালোমতই চেষ্টা করছিল বোলাররা। কিন্তু বারবারই যেন বাধার প্রাচীর হয়ে দাড়াচ্ছিলেন আম্পায়াররা। একাধিক ক্লোজ কল গিয়েছে আফগানদের পক্ষে। যে আউটের পর সৈকতের মক, সেই ক্লিন বোল্ডও এর সিদ্ধান্তও এসেছে থার্ড আম্পায়ারের কাছ থেকে!

আবারও সেই রুবেল

নিদাহাসের ফাইনালের ক্ষত এখনো দগদগেই বলা যায়। সেটি উপশমের বদলে আরো একবার রুবেল দেখালেন শেষের দিকে তার ওপর ভরসা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মোসাদ্দেকের মত অকেশনাল বোলারও যেখানে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছেন রান আটকাতে, সেখানে রুবেল এর উদারনীতিতে সাত বল আগেই শেষ ম্যাচ।

বাংলাদেশকে ব্যাটিং শেখালো আফগানিস্তান

লক্ষ্য মাত্র ১৩৫; এ রকম রান তাড়া করার জন্য যেমনটি প্রয়োজন ঠিক সেরকম ব্যাটিংই করেছেন আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। বলের মেরিট বুঝে কখনো ধীরে কখনো বা বোলারের ওপর চওড়া হয়ে রানের চারা কিভাবে সচল রাখতে হয় সেটিই যেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন নবী, শেহজাদরা। বোলাররা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ম্যাচ থেকে আফগানিস্তান যে একবারের জন্যও ছিটকে যায়নি তার কৃতিত্ব ব্যাটসম্যানদেরই। আফসোস, দেখেও শিখে না শুধু বাংলাদেশই!