যাদের বিশ্বকাপ না জেতাটা সত্যিই আক্ষেপের

যাদের বিশ্বকাপ না জেতাটা সত্যিই আক্ষেপের

ক্রীড়া বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। আসর শুরুর বহু আগ থেকেই পাওয়া যায় উত্তেজনার আঁচ। মিডিয়া, খেলোয়াড়, সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সবার আলোচনার একমাত্র বিষয়েই যেন পরিণত হয় বিশ্বকাপ। সেই ১৯৩০ থেকে শুরু অদ্যাবধি আবেদনে সামান্য ঘাটতিও পড়েনি। বরং দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। বিশ্বকাপের খুব কম বিষয়ই আছে যা ফুটবল প্রেমীদের জানা নেই। সেই জানা অধ্যায়গুলোই আরো একবার মনে করিয়ে দেয়া, আর অজানা বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে জানানোর চেষ্টা করছে জবান। তারই অংশ হিসেবে ‘বিশ্বকাপ না জেতা’ দশ তারকার কথা বলব আজ, যাদের জন্য বিশ্বকাপটা আসলেই প্রাপ্য ছিল বলা যায়, তাদের নিয়েই আজকের আয়োজন…

 

লেভ ইয়াসিন (রাশিয়া)

লেভ ইয়াসিন

বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে যে পুরস্কারটা দেয়া হয় একটা সময় তার নাম ছিল ‘লেভ ইয়াসিন ট্রফি’! সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে ৭৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ইয়াসিন ক্লাব দেশ মিলিয়ে গোটা ক্যারিয়ারে সেইভ করেছেন দেড় শতাধিক পেনাল্টি, ২৭০ ক্লিনশীট! ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০, চার বিশ্বকাপেই খেলেছে সোভিয়েতরা, খেলেছেন ইয়াসিনও। বিচক্ষণ, চতুর গোলরক্ষক লেভ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অমর হয়ে রবেন। ফিফার ড্রিম টিম, অলস্টার টিম সবগুলোরই গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী তিনি। অলিম্পিক স্বর্ণ, ইউরো জিতলেও বিশ্বকাপে কখনো চুমু খেতে পারেননি। পারলে হয়ত সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক হয়ে যেতেন বিশ্বকাপ আসরেও সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক।

 

রবার্তো ব্যাজ্জিও (ইতালি)

বেদনার রঙ নীল। ইতালির জার্সি নীল। কাকতাল? মোটেই নয়! ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ইতালিয়ানদের জন্য অম্লমধুর। স্ট্রাইকার রবার্তো ব্যাজ্জিওর জন্য তারচেয়ে বেশি। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে দলকে ফাইনালে তুলেছেন। ৫ গোল করে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছেন আজ্জুরিদের। কিন্তু, ফাইনালে ট্রাইবেক শ্যুটে পেনাল্টি মিস করে মূহুর্তেই নায়ক থেকে বনে যান খলনায়ক। তার মিসেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়। এর আগে পরে ১৯৯০ এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপ খেলেছেন ইতালির হয়ে ৫৬ ম্যাচে ২৭ গোল দেওয়া সাবেক জুভেন্তাস তারকা। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিকে তৃতীয় করানোয় রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৯৩ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, ‘৯৪তে হয়েছেন ২য়। বিশ্বকাপে ব্যাজ্জিওর ওপর তাই নজর ছিল সবার। ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে থেকেও অল্পের জন্য দেশকে সোনার সম্মান এনে দিতে পারেননি, আসরে সিলভার বুট পেলেও রবার্তোর তাই পাওয়া হয়নি অমরত্ব।

 

মাইকেল বালাক (জার্মানি)

মাইকেল বালাক

সাবেক জার্মান অধিয়ানক মাইকেল বালাকের বিশ্বকাপে অভিষেক ২০০২ সালের কোরিয়া জাপান আসরে। পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ, গোল করার সামর্থ্য মিলিয়ে জার্মান যন্ত্রের মধ্যমাঠের প্রাণ হয়ে উঠেন তিনি। নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, সেমিতে স্বাগতিক কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করে দলকে ফাইনালে তোলেন। ধীরে ধীরে নিজেকে পরিণত করে তৈরি করা বালাকের কাঁধে সঁপে দেওয়া হয় ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানির দায়িত্ব। তার নেতৃত্বে স্বাগতিকরা সেমিফাইনাল পর্যন্ত যায়। অধিনায়ক দলকে নেতৃত্ব দেন সামনে থেকেই। মাইকেল বালাকও ব্যতিক্রম ছিলেন না। ২০০৬ বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে (ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা) ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন, আগের আসরের ন্যায় এবারও জায়গা পান বিশ্বকাপ অলস্টার দলে। ইঞ্জুরির কারণে ২০১০ এ খেলতে পারেননি, কিন্তু মাত্র দুই আসর খেলেই বিশ্বকাপে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ভালমতো।

 

জিকো (ব্রাজিল)

জিকো

আর্থার আআন্তুনেস কোইমব্রা। অপরিচিত ঠেকছেে? জিকো, ভক্তদের সাদা পেলে, আশির দশকে ব্রাজিলের সোনালি প্রজন্মের একজন। এতটুকুই যথেষ্ট তার সমন্ধে বোঝাতে। তিনি নামের প্রতি সুবিচার করে ৭১ ম্যাচে ৪৮ গোল দিয়েছেন হলুদ জার্সিতে। ব্রাজিলের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা জিকো সর্বকালের অন্যতম সেরা ফিনিশার হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৮, ‘৮২, ‘৮৬ বিশ্বকাপে ক্যানারিনহোদের প্রতিনিধিত্ব করা জিকোকে ধরা হয় সত্তর পরবর্তী সময়ে এবং আশির দশকের শুরুর দিককার সেরা ফুটবলার হিসেবে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হলেও প্রয়োজনে কখনো সেন্ট্রাল মিডে, কখনোবা খেলতেন সেকেন্ড স্ট্রাইকার রূপে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৩য় হয়। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের একেবারে অন্তিম মূহুর্তে কর্ণার থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে জিকো একটি গোল করেন। রেফারি গোল বাতিল করে দেন! বল গোললাইন ছোঁবার আগেই নাকি তিনি শেষবাঁশি বাজিয়ে দেন! ১৯৮২ সালের আসরেই বিশ্ব দেখে দুরন্ত জিকোকে। ব্রাজিলের নাম্বার টেন সেবার চার গোল করেন টুর্নামেন্টে, দারুণ দক্ষতা আর শৈল্পিকতার মিশেলে।

 

ইউসেবিও (পর্তুগাল)

ইউসেবিও

ইউসেবিও ফেরেইরা। গত শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্ট্রাইকার পজিশনের ইউসেবিও কারো জরিপে হয়েছেন বিংশ শতাব্দীর সপ্তম, কারো জরিপে নবম, কেউ বা বানিয়েছেন তাকে দশম। পেলের একশো জীবন্ত কিংবদন্তির তালিকায় তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। ১৯৬৬, বিশ্বকাপের অষ্টম আসর। জোয়াও অগাস্টো, হোসে তরেস, ফেরেইরা পিন্টোদের সঙ্গে নিয়ে ইউসেবিও, যিনি আগের বছরই বেনফিকার হয়ে জিতে এসেছেন পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়নশিপ। পর্তুগিজরা শুভ সূচনা করে হাঙ্গেরিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। জোড়া গোল পান জোয়াও অগাস্টো। ব্ল্যাক প্যান্থার ইউ’র গোলের খাতা খোলে বুলগেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারানো ম্যাচে। পরের খেলায় ব্রাজিলকে ৩-১ গোলে হারানোর দিনে তার নামের পাশে জোড়া গোল। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ গোলে হারায় পর্তুগাল। ম্যাচের আরেকটি স্কোরলাইন আছে। ইউসেবিও ৪-৩ কোরিয়া! সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় কৃষ্ণাঙ্গ এই নক্ষত্রের। ৩১ এবং ৮১ মিনিটে স্যার ববি চার্লটনের জোড়া গোলের পর ৮৩ মিনিটে একটি শোধ করেন পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে ৬৪ ম্যাচে ৪১ গোল করা ইউসেবিও। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী শেষ খেলায় রাশিয়াকে ২-১ গোলে পরাস্ত করে সেলেকসাওরা। সেখানেও কালো চিতা লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি। ৫ ম্যাচে ৯ গোল, বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান এসেছে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই।

 

ফেরেন্স পুসকাস (হাঙ্গেরি)

পুসকাস

১৯৪৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেক মেজর পুসকাসের। ৪ঠা জুলাই ১৯৫৪। ওয়াঙ্কডর্ফ স্টেডিয়াম, বার্ন, সুইজারল্যান্ড। বিশ্বশাসানো হাঙ্গেরির প্রথম শিরোপার আশা অধরাই থেকে যায়। ১৯৩৮ -এ ইতালি, এবার পশ্চিম জার্মানিতে স্বপ্নভঙ্গ। ভাঙ্গা সেই স্বপ্ন আর জোড়া লাগেনি। কেবল নেমেছে সাফল্যের রেখচিত্র। পুসকাস চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৫৪’র আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ খেলে পুসকাস গোল করেছেন চারটি। প্রথম ম্যাচে কোরিয়ার বিপক্ষে ২ গোল, পরের ম্যাচে জার্মান জালে এক গোল। গ্রুপ পর্বে জার্মানদের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভেরনার ট্যাকলের শিকার হয়ে খেলতে পারেননি পরের দু’ম্যাচ। ফাইনালে ফিরে বিপক্ষের জালে বল পাঠালেও হাঙ্গেরিতে জুলে রিমে ট্রফি পাঠানো যায়নি, পাওয়া হয়নি বিশ্বকাপের স্বাদ, মেলেনি অমরত্ব। তবে ইতিহাসে তিনি বেঁচে রবেন, ৮৪টি আন্তর্জাতিক গোলে যা কিনা হাঙ্গেরির সর্বোচ্চ আর সর্বকালের ২য় সর্বোচ্চ।

 

সান্দোর ককসিস (হাঙ্গেরি)

সান্দোর ককসিস

৬৮ ম্যাচে ৭৫ গোল! হাঙ্গেরির জার্সিতে তারকা ফরোয়ার্ড সান্দোর ককসিসের গোল পরিসংখ্যান। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে দক্ষতায়, শৈল্পিকতায় পুসকাসকে যদি মনে রাখে ভক্তরা, তবে ককসিসকে মনে রাখবে বন্যতায়! ৫ ম্যাচে ১১ গোল! বিশ্বকাপের তৎকালীন সর্বোচ্চ গোলদাতা। টুর্নামেন্টজুড়েই যেন মেতেছেন গোলের নেশায়, নিজেকে নিজেই ছাড়িয়ে যাবার ধ্যানে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে হ্যাটট্রিক। পরের খেলায় পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ ব্যবধানে হারায় হাঙ্গেরি। ম্যাচে আরেকটি স্কোরবোর্ড দেয়া যেত। ককসিস ৪-৩ জার্মানি! কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল এবং সেমিতে উরুগুয়ে, উভয়ের জালেই একজোড়া করে গোল। ৪ ম্যাচেই ১১। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচে তার কাছে প্রত্যাশা ছিল সবচাইতে বেশি। টুর্নামেন্টে প্রথমবার গোল করতে ব্যর্থ তিনি, মাশুল গুনতে হয়েছে ম্যাচটাই হেরে, সঙ্গে ট্রফি খুঁইয়ে!

 

জ্যঁ ফঁতেইন (ফ্রান্স)

জ্যঁ ফঁতেইন

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সপ্তদশী তরুণ পেলের কথা। সেবারই যে কালোমানিকের আগমনী সুর শুনতে পেয়েছিল দুনিয়া। ব্রাজিল ভক্তদের কাছে আটান্ন মানে পেলে। ফরাসিদের কাছে যেমন আটান্ন মানে ফঁতেইন! ৬ ম্যাচে ১৩ গোল! মাত্রই আগের আসরে (১৯৫৪) হাঙ্গেরির সান্দোর ককসিস ৫ ম্যাচে করেন ১১ গোল। এক আসর পরেই তা টপকে যাবেন কেউ, ঘুণাক্ষরেও কারো ভাবার কথা নয় তা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের স্ট্রাইকার জ্যঁ ফঁতেইন রীতিমত ঝড় তুলেছিলেন। তাঁর রেকর্ড আজো অক্ষুণ্ণ। এক আসরেই কাজের কাজ করেছেন। এখনো পর্যন্ত হয়ে আছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবু এত এত গোলের পরও দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিতে না পারার কষ্টটা ফঁতেইনকে আজো নিশ্চয়ই পোড়ায়!

 

ইয়োহান ক্রুইফ (হল্যান্ড)

ইয়োহান ক্রুইফ

১৯৭১, ‘৭৩, ‘৭৪। তিনটে ব্যালন ডি’অর, একটি নাম। মেসি-রোনালদোর পাঁচটি করে থাকতে পারে, প্রথমবার তিন অঙ্ক ছোঁয়ার দুঃসাহস ক্রুইফ দেখিয়েছেন। ১৯৬৬ সালে হল্যান্ডের কমলা জার্সিতে অভিষিক্ত টোটাল ফুটবলের অন্যতম অংশ ইয়োহান ১৯৭৭ সালে অবসরের আগে দেশের জন্যে খেলেছেন ৪৮ ম্যাচ, গোল সংখ্যা ৩৩। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে দেশকে প্রথমবার ফাইনালে তোলেন ক্রুইফ। পশ্চিম জার্মানির কাছে পরাজিত হবার আগে তারা একে একে বিদায় করে পূর্ব জার্মানি, আর্জেন্টিনা এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন ক্রুইফ। অরেঞ্জ আর্মি হল্যান্ডের উদ্ভাবিত ‘টোটাল ফুটবলে’ বিমোহিত হয় সবাই। কিন্তু, ক্রুইফরা দিনশেষে পরাজিত।

 

মিশেল প্লাতিনি (ফ্রান্স)

ক্রুইফের দেখানো পথে হেঁটে তিনবার ব্যালন ডি অর জিতেছেন প্লাতিনিও। আবার ক্রুইফের মতোই দেশকে বিশ্বসেরা করতে ব্যর্থ তিনি। সাবেক উয়েফা সভাপতি ১৯৭৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। অধিনায়ক হয়ে ১৯৮২ সালের আসরে ফ্রান্সকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিলেও পশ্চিম জার্মানির কাছে ট্রাইবেকে হেরে যায় ৫-৪ ব্যবধানে। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা সেই ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ গোলে অমীমাংসিত থাকে। ব্লুজদের পক্ষে একটি গোল করেন প্লাতিনি। ১৯৮৬ তে শেষ বিশ্বকাপ খেলেন নিজের সময়ের অন্যতম সেরা ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ। ভাগ্যের ফেরে সেবারও জার্মান খড়গেই কাটা পড়ে ফরাসিরা। ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হয় আবারো। ক্লাব ক্যারিয়ারে ভুরি ভুরি সাফল্য পেলেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্লাতিনি আনসাং হিরোই!

এছাড়াও জার্মান গোলরক্ষক অলিভার কান, ইতালির পাওলো মালদিনি, ফ্রাঙ্কো বারেসি, জর্জিয়ান তারকা গিওর্গি হাজি, হাঙ্গেরির নান্দর হিদেকুটি, জলাতান চিবর, ফ্রান্সের ম্যানুয়েল অ্যামোরোস, হল্যান্ড তারকা রোনাল্ড কোম্যানরা এই তালিকা বৃদ্ধি করবেন নিঃসন্দেহে। প্রত্যেকেরই যে সামর্থ্য ছিল বিশ্বকাপ জেতার, প্রত্যেকেই ভুগেছেন না পাওয়ার যন্ত্রণায়।