গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে আটক করেছে র্যাব-৩। রাজধানীর শাহবাগে ‘বিনা বিচারে হত্যা’র প্রতিবাদে ডাকা কর্মসূচিতে আসার পর সাদা পোশাকের র্যাব তার সাথে বলে এবং মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। বেলা সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে র্যাব জানিয়েছে, “শাহবাগে অবৈধ সমাবেশ করার কারণে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে”।
বুধবার বিকেলে মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বিনা বিচারে হত্যা’র প্রতিবাদে শাহবাগে পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে জড়ো হয় গণজাগরণ মঞ্চ। এ সময় ‘নির্বিচারে মানুষ খুনের বিরুদ্ধে জাগো বাংলাদেশ’ স্লোগান দেয় তারা। ফেসবুকে একটি ইভেন্ট ক্রিয়েট করে ডাকা এই সমাবেশে সরকারকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইমরান বিকেল ৪টার সময় আসেন। এ সময় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রোগ্রাম চলছিল। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি মাইক্রোবাস আসে। মাইক্রোবাস থেকে সাদা পোশাকধারী ৭-৮ র্যাব সদস্য ‘একটু যেতে হবে’ বলে তাকে মাইক্রোতে তুলে নেন। এসময় র্যাবের ৪টি গাড়িও সেখানে উপস্থিত হয়। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা বাধা দিতে গেলে র্যাব সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করেন। আহত হন একজন, তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। একরামকে ‘ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে’ বলে দাবি করেছে পরিবার। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী এই অভিযানের সমালোচনা হতে থাকে। রবিবার গণজাগরণ মঞ্চ অবস্থান নেয় শাহবাগে কিন্তু পূর্বানুমতি না নিলে পুলিশ তাদের সরে যেতে বাধ্য করে।
এর আগে ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলনের সময় ইমরান এইচ সরকারকে বেশ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। ওই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র সিদ্দিকের মৃত্যু হয়েছে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ইমরান এইচ সরকার। যার কারণে মিথ্যাচার ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশের সন্দেভাজন তালিকায় উঠে এসছিলো ইমরান এইচের নাম।