“তোমরা জোরপূর্বক দখলকৃত ভূমিতে পা রাখতে যাচ্ছ। রুখে দাঁড়াও, মানবতার খাতিরে!” হ্যাঁ এভাবেই আকুতি জানিয়েছিল ফিলিস্তিন। এবং প্রতিবাদের মুখে বাতিল ঘোষিত হয়েছে ইসরায়েলের সাথে আর্জেন্টিনার বহুল আলোচিত প্রীতি ম্যাচটি।
আগামী শনিবার রাত সাড়ে ১২ টায় জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার খেলাটি। রাশিয়া বিশ্বকাপ সফরের পূর্বে এটাই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। অন্যদিকে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে দেখার জন্যে মুখিয়ে আছে ইসরায়েল। বিশ মিনিটের মাথায় খেলার সকল টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। কিন্ত ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদের মুখে খেলাটি বাতিল করা হবে বলে জানা গেছে। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোন বার্তা না দিলেও ইসরায়েলি এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ফুটবল দল পাঠাবে না আর্জেন্টিনা।
আলজাজিরা ও টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, ম্যাচ বাতিলের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতোমধ্যে ইসরায়েলিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের ফুটবল সংস্থা ঘোষণা দেয়, যদি আর্জেন্টিনা ফুটবল দল জেরুজালেম খেলতে আসে তাহলে ফিলিস্তিনের সব সমর্থক আর্জেন্টিনার জার্সি পুড়িয়ে ফেলবে। তারা আরো বলে, আর্জেন্টিনা যদি জেরুজালেমে খেলে তাহলে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার যে পরিকল্পনা তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা এই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতেই আর্জেন্টিনা দল না পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
BREAKING: We welcome news that @Argentina's "friendly" football match with Israel has been canceled! The team responded to creative campaigning from fans around the world denouncing Israel’s sports-washing of its crimes against Palestinians. @FIFAcom: Take note! #NothingFriendly pic.twitter.com/9ZdFYy32ke
— PACBI (@PACBI) June 5, 2018
ফ্রান্স সফরে থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেই আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতির কাছে আর্জি করেন যেন খেলা বাতিল করা না হয়। কারণ এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ফুটবল ইতিহাসে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এবং এর মাধ্যমে জেরুজালেম দখল প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেয়ারও প্রয়াস নেয়া হয়েছিল বলে বলছেন বিশ্লেষকরা। কিন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা বেঁকে বসায় চিন্তায় পড়ে গেছে ইসরায়েল। অন্যদিকে ‘বয়কট ইসরায়েল’ আন্দোলনের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
এই ম্যাচ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছিল তারা যেন বুঝতে চেষ্টা করে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে অন্যের জায়গা দখল করে সেখানে প্রীতি ম্যাচ খেলতে তাতে কোন সৌহার্দ্য বা বন্ধুত্বের কিছু নেই। এটা আসলে দখলদারিত্বের বৈধতা তৈরির একটি অপপ্রয়াস মাত্র। এর সঙ্গে মানবতার যেমন কোন যোগ নেই, তেমনি ফুটবলের উন্নয়নেরও কোন যোগ নেই।
আর্জেন্টিনা যদি জেরুজালেমে খেলতে না আসে তাহলে এটিই হবে ইসরায়েল বয়কট কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় নিদর্শন।