জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবরকে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ বুধবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে আসিফকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন নাকচ করেন। অন্যদিকে আসিফের আইনজীবীরাও জামিন চাইলে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসিফের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন আরেক সঙ্গীত শিল্পী শফিক তুহিন। গত পহেলা জুন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের এক অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন আসিফ অনুমতি ছাড়াই তার সঙ্গীতকর্ম বিক্রি করে দিচ্ছেন। আসিফ তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠানের গানগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ নিয়ে শফিক তুহিন ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “গান তুমি কার? দেখুন কিভাবে মেধাস্বত্ব চুরি করে শিল্পীদের ফকির বানিয়ে একদল সংগীত দুর্বৃত্ত সম্পদের পাহাড় গড়ে।” যার নিচে আসিফকে কমেন্টও করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পার হয়ে অবশেষে বিষয়টি মামলায় গড়ালো। গ্রেফতার হলেন আসিফ।
প্রশ্ন হল গানের স্বত্ব বিক্রয় বিষয়টি কপিরাইট আইনের অধীন। তবে আসিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারা কেন? এর পেছনে কোন হয়রানির চেষ্টা রয়েছে কিনা সে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার অবকাশ রয়েছে। এছাড়া রিমান্ড চাওয়া এবং জামিন না দেওয়ার বিষয়টি আসিফ ভক্তদের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আসিফের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হীরু বলেন, “৫৭ ধারায় এ মামলা হতে পারে না। একটা ভিত্তিহীন মামলা। যে অভিযোগ, তা কপিরাইট আইনের।”

এদিকে আসিফ-তুহিন দ্বন্দের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তুহিন এবং আসিফ ফেসবুক লাইভে এসে এ বিষয়ে কথাও বলেন। আসিফ আদালতের কাছে দাবি করেন, ফেসবুকে শফিক তুহিন তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি নিজে শফিক তুহিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারতেন। আসিফ আরও দাবি করেন, ফেসবুক লাইভে তিনি আগে আসেননি, শফিক তুহিন আগে এসেছেন। এবং শফিক তুহিন ভুয়া কাগজপত্র প্রকাশ করে তার মানহানি করেছেন। মামলায় শফিক তুহিন দাবি করেছেন, আসিফ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। লাইভে তার (শফিক তুহিন) বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা বক্তব্য দেন। আসিফ লাইভে শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, শফিক তুহিনকে যেখানেই পাবেন, সেখানেই প্রতিহত করবেন। এসময় আদালতে আসিফের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহাদি হাসান।
মামলার আগে শফিক তুহিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি; কিছু হলে দায়ভার আসিফ আকবরের। এতে করে জল আরো গভীরে গড়ায়।
আসিফ আকবরের গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল হয়ে উঠেছে। অনেকেই শফিক তুহিনের এই কাজকে ঘৃণ্য বলে আখ্যা দিচ্ছেন। নিন্দা জানাচ্ছেন প্রায় সবাই।
এদেশের সংগীত বাজারকে সচল রাখার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। গীতিকার, সুরকারদের ন্যায্য দাবী আদায়ে তিনিই অবিরাম যুদ্ধ…
Posted by Wares Adnan on Wednesday, June 6, 2018
সংগীত জগতে এক সময় আসিফ আকবর, শফিক তুহিন বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আসিফ আকবর সংগীত জগত থেকে প্রায় পাঁচ বছর দূরে থাকার পর বছর দু’য়েক আগে তিনি আবারো ফিরে আসেন। এরই মধ্যে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যও হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে দলটির একটি সূত্র জানায়।
১ thought on “অভিযোগ কপিরাইটের, অথচ ৫৭ ধারায় কারাগারে আসিফ”
কমেন্ট বন্ধ।