‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’র প্রতীক্ষার প্রহর যেন কাটছেই না

‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’র প্রতীক্ষার প্রহর যেন কাটছেই না

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স প্রতিনিয়ত প্রসারতা লাভ করছে। এর গতি টেনে ধরা যাচ্ছে না। ২০০৮ সাল থেকে কমিক বুকের সুপারহিরোদের রুপালি পর্দায় নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত তারাই সফলতার শীর্ষে।

রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের ‘আয়রনম্যান’ দিয়ে ২০০৮ সালে সিনেমার জগতে প্রবেশ করে মার্ভেল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এক দশকে এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যানারে মুক্তি পাওয়া সিনেমার সংখ্যা ১৮। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের এই বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট ‘অ্যাভেঞ্চার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমার মধ্যেও তৃতীয় অবস্থানে আছে এই সিনেমাটি। ২৭ এপ্রিল দুনিয়াব্যাপি মুক্তি পাবে সিনেমাটির প্রথম পর্ব।

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সবচেয়ে বড় ধামাকা ছিল ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যাভেঞ্জার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি ‘অ্যাভেঞ্জার্স’। এটি শুধু মার্ভেলেরই নয়, সুপারহিরো সিনেমার জগতেরই সেরা কাজ ছিল। বিশ্বব্যাপি ব্লকবাস্টারের তালিকায় এর অবস্থান ৫ নম্বরে। সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তি অ্যাভেঞ্জার্স: এইজ অফ আলট্রন’ মুক্তি পায় ২০১৫ সালে। এটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

এইজ অফ আলট্রনের পর সবাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ সিনেমাটির জন্য। অায়রনম্যান ও ক্যাপ্টেন আমেরিকাকে দুই দলে ভাগ করে দু’জনের দ্বন্দ্বের গল্প নিয়ে হাজির হয় ‘সিভিল ওয়ার’। মার্ভেল ইউনিভার্সের সুপারহিরোরা ভাগ হয়ে যায় দু’জনের দলে। একদিকে ক্যাপ্টেন আমেরিকার বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা, অন্যদিকে আয়রনম্যানের বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ! এমন এক প্রেক্ষাপট নিয়ে আবারও অসম্ভব সফল মার্ভেল। ওই সফলতার পর সবাই ধারণা করেছিল, এটিই হয়তো মার্ভেলের ইতিহাসের সবচেয়ে সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র। কিন্তু সিভিল ওয়ার মুক্তির কিছুদিন আগেই মার্ভেলের কর্ণধার আইজ্যাক পার্লমুটার ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১৮ নাগাদ দেখা যাবে মার্ভেলের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিময় ভিলেন থ্যানোসের উত্থান। কিন্তু কে এই থ্যানোস?

থ্যানোস হচ্ছে মার্ভেল ইউনিভার্সের সবচেয়ে শক্তিশালী কমিক চরিত্র ও ভিলেন। সে ‘টাইটানিক ইটারনাল’ জাতির মহাশক্তিধর সুপারহিউম্যান। ইনফিনিটি স্টোনের খোঁজে পৃথিবীতে আসবে সে। ‘উইন্টার সোলজার’ আর ‘সিভিল ওয়ার’-এর পরিচালক এন্থনিও রুশো ও জ্যাক রুশো ভ্রাতৃদয় এই দানবীয় প্রজেক্টটি রুপালি পর্দায় হাজির করছেন। তাদের সঙ্গে আছেন চিত্রনাট্যকার ক্রিস্টোফার মার্কাস ও স্টিভেন ম্যাফিলি।

গত এক দশকে অনেক জনপ্রিয় সিনেমা মুক্তি দিয়েছে মার্ভেল। তবে এবার তারা হাজির হচ্ছে অসাধারণ এক ভিলেনকে নিয়ে। তা সবার জন্যই অন্য রকম এক অনুভূতির সৃষ্টি করবে। এর আগে থ্যানোসকে কয়েক ঝলকের জন্য অ্যাভেঞ্জার্সের প্রথম কিস্তি ও গার্ডিয়ান অফ দি গ্যালাক্সিতে দেখা গেলেও মূল ভিলেন হিসেবে এই প্রথম। অন্যদিকে তার সঙ্গে লড়াই করার জন্যই অ্যাভেঞ্জার্স ছাড়াও দলে থাকবে গার্ডিয়ান অফ দি গ্যালাক্সির একদল সুপারহিরো। বলা যায়, মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সব সুপারহিরো থাকবেন এই কিস্তিতে।

অ্যাভেঞ্জার্স ইনফিনিটি ওয়ারে থাকছে মার্ভেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র আয়রনম্যান। যথারীতি তাকে রূপায়ণ করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন আমেরিকার চিত্রায়ণে থাকবেন ক্রিস ইভান্স। এর পাশাপাশি মার্ভেল কমিকের জনপ্রিয় চরিত্র স্পাইডারম্যানের ভূমিকায় থাকবেন টম হল্যান্ড, আসগার্ডিয়ান দেবতা থরের চরিত্রে ক্রিস হেমসওর্থ, উইজার্ড ডক্টর স্ট্র্যাঞ্জের চরিত্রে বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, শক্তির আধার হাল্কের চরিত্রে মার্ক রাফলো, ব্ল্যাক উইডো চরিত্রে স্কারলেট জোহানসন, বাকি বার্নসের চরিত্রে সেবাস্তিয়ান স্টান, স্কারলেট উইচের চরিত্রে এলিজাবেথ অলসন, হক আইয়ের চরিত্রে জেরেমি রেনার, ওয়াকান্ডার রাজা ব্ল্যাক প্যান্থারের চরিত্রে চ্যাডউইক বসম্যান, এন্টম্যান হিসেবে পল রাড এবং ধারাবাহিক ভিলেন লকির চরিত্রে টম হিডলস্টনসহ আরো থাকবেন ভিশন, ফ্যালকন ও ওয়ারমেশিন। এছাড়া গার্ডিয়ান অফ দি গ্যালাক্সি ফ্র্যাঞ্চাইজের স্টারলর্ডের চরিত্রে যথারীতি ক্রিস প্যাট, গামোরার চরিত্রে জো সালদানা ও ড্র্যাক্স দি ডেস্ট্রয়ারের চরিত্রে থাকবেন ডেইভ বাতিস্তা। অন্যদিকে গ্রুট, রকেট রেকুন ও ম্যানটিস তো থাকছেনই। আর থ্যানোসের চরিত্রে আছেন জশ ব্রুলিন।

অ্যাভেঞ্জার্স : ইনফিনিটি ওয়ারের কাহিনি কেমন হবে বা এর শেষ পরিণতিই বা কী হবে তা ভেবেই দিন পার করছে সিনেমা ভক্তরা। ওই দানবকে বধ করতে একযোগেই নামতে হবে পুরো অ্যাভেঞ্জার্স ও গার্ডিয়ান অফ দি গ্যালাক্সিকে। এছাড়া ট্রেইলার দেখে যতটুকু ধারণা করা যায় তা হলো, আমরা হয়তো এই কিস্তিতে একজন প্রিয় সুপারহিরোকে হারাতে যাচ্ছি। কারণ ইনফিনিটি স্টোন সংগ্রহে মত্ত ভিলেন থ্যানোস, যার শক্তির সামনে নত হতে বাধ্য দুনিয়ার সব সুপারহিরো। ইনফিনিটি গানলেটে সবগুলো ইনফিনিটি স্টোন থাকলে থ্যানোসের এক চুটকিতে পৃথিবী মিলিয়ে যাবে। ওই শক্তিশালী শত্রুর হাত থেকে এই দুনিয়াকে রক্ষা করতে পারবে তো অ্যাভেঞ্জার্স? এই আশঙ্কার অবসান হবে আসন্ন ২৭ এপ্রিল। কারণ ওইদিনই অন্যসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে ইনফিনিটি ওয়ার। মার্ভেল ভক্তদের প্রতীক্ষার প্রহর যেন কাটছেই না।