ত্রিপুরায় কে কার কাছে হারলো

ত্রিপুরায় কে কার কাছে হারলো

এক.
১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনী ফল আসতে শুরু করেছে দুপুর থেকে। হয়তো আজ রাতের মধ্যেই পুরো ফল বাংলাদেশের প্রচারমাধ্যমের শ্রোতা-দর্শক পেয়ে যাবেন।

ভারতের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরা। ৫৪৫ আসনের ভারতের লোকসভায় ত্রিপুরা-র জন্য বরাদ্দ মাত্র দুটি আসন। এর মধ্যে আবার একটি ‘শেডিউল ট্রাইব’দের জন্য সংরক্ষিত। এ থেকে অবশ্য রাজ্যটির সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের ফলটিকে গুরুত্বহীন ভাবলে ভুল হবে, বিশেষ করে বর্তমানের রাজনৈতিক সমীকরণে।

ভারতের কেন্দ্রে যারা ক্ষমতায় রয়েছে ওই আরএসএস-বিজেপি-সংঘ পরিবার যে তিন শক্তিকে (মুসলমান, খ্রিস্টান ও কমিউনিস্ট) ভাবাদর্শিকভাবে সরাসরি শত্রুজ্ঞান করে তাদের একটি প্রায় ৭০ বছর ধরে ত্রিপুরায় প্রায় একচেটিয়া প্রভাব ধরে রেখেছিল। বিজেপি-র জন্য এটা ছিল এক অসহ্য পরিস্থিতি। ওই পরিস্থিতি পাল্টাতে পেরেছে তারা স্থানীয় ট্রাইবালদের ব্যবহার করে। নরেন্দ্র মোদি আজ ত্রিপুরার ফলাফলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এটা আদর্শিক বিজয়।’

১৯৫২ থেকে ২০১৪ সার পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার একটি আসনে মাত্র চারবার এবং অারেক আসনে তিনবার অ-কমিউনিস্টরা জিতেছে।

স্থানীয় বিধানসভার ইতিহাস আরো কমিউনিস্ট প্রভাবিত। ১৯৬৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি নির্বাচনে ৮ বার সিপিএম (মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি) নির্বাচনে জিতেছে। এর মধ্যে গত ৩৪ বছর তারা একচেটিয়া জিতে চলেছে। সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ২০ বছর ধরে ওই পদে আছেন। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় এবারের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আরএসএস পরিবারের হিন্দুত্ববাদী কোনাে দলের প্রার্থী জিততে পারেননি। কিন্তু এবার (৫৯ আসনে ভোট হয়েছে)- এই লেখা যখন লিখছি তখন ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনের ফলের অভিমুখ এ রকম যে, বিজেপি জোট ৪৩টি আসনে এগিয়ে। আর বামফ্রন্ট এগিয়ে মাত্র ১৬টিতে। স্পষ্ট যে, ত্রিপুরায় বিজেপি জোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

ত্রিপুরার সঙ্গে নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়-এও একই সঙ্গে ভোট হলো। কিন্তু ভারতজুড়ে– আরাে সুনির্দিষ্টভাবে বললে পুরো উপমহাদেশজুড়ে কেবল ত্রিপুরার ভোটই বিশেষ মনােযোগ কেড়ে নিয়েছে। ভারতে করপোরেট ও আরএসএস প্রভাবিত কাগজগুলো রীতিমতো উল্লাস করছে ত্রিপুরার নির্বাচনী ফলে। তারা এটাকে দেখাতে চাইছে উপমহাদেশের সর্বশেষ কমিউনিস্ট ঘাঁটির পরাজয় তথা সাম্যবাদী চিন্তার প্রত্যাখ্যান হিসেবে। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি কী সেটিই বলছে?

ওই ফলের প্রতীকী বার্তাটি পরিষ্কার : বাঙালিত্বের আধিপত্য পরাজিত হলো ত্রিপুরায়। ত্রিপুরার নির্বাচনে লড়াই হয়েছিল অবদমিত আদিবাসী আবেগের সঙ্গে অধিপতি বাঙালিত্বের। এটাকে সাম্যবাদ বনাম পুঁজিতন্ত্রের লড়াই আকারে দেখালে ভোটযুদ্ধের মূল মর্মটুকু বিকৃত করা হয় মাত্র

দুই.
ত্রিপুরার নির্বাচন ঘিরে প্রচারমাধ্যমের বিপুল মনােযোগের কারণ হলো, বিজেপি ছোট্ট ওই রাজ্যের নির্বাচনটিকে জীবন-মরণ যুদ্ধে পরিণত করেছিল। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেই যেসব রাজ্যে বিজেপি পরিবার বিশেষ সাংগঠনিক মনােযোগ দিয়েছিল এর মধ্যে ছিল ত্রিপুরাও। এর কারণটি যতটা রাজনৈতিক এর চেয়েও বেশি ছিল আদর্শগত। বিজেপির মরিয়া মনোভাব দেখে স্বভাবত বাম ফ্রন্টও এটাকে চূড়ান্ত এক যুদ্ধ হিসেবে নিয়েছিল। এরূপ হাড্ডাহাড্ডির তাৎক্ষণিক ফল হয়েছে একটা রেকর্ড। ভোটারদের মধ্যে ৯২ শতাংশ (পোস্টাল ব্যালটসহ) এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া এবার নিয়ে পর পর তিনবার ত্রিপুরায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার টার্ন-আউট হলো যা ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ত্রিপুরায় ভোটারদের বেশি বেশি কেন্দ্রে আসার বড় কারণ হলো, আদিবাসী-বাঙালি সবাই ওই রাজ্যে তীব্রভাবে রাজনীতি সচেতন। এটা ওই রাজ্য যেখানে স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন সময় ছোট-বড় অর্ধডজন সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয়তা ছিল (এবং আছে)। আবার ১৯৯০-পরবর্তী বিশ্বজুড়ে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কমিউনিস্টদের দুর্দিনে ত্রিপুরা থেকে সিপিএম-কে একটিবারের জন্যও হটানো যায়নি যেমনটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালা-য়।

অতীতে ত্রিপুরায় বাম ফ্রন্ট জিতলেও মূলত লড়াই হতো তাদের সঙ্গে কংগ্রেস-এর। এবার ওই সমীকরণ পাল্টে গেছে। লড়াইয়ের মাঠে পা রেখেছে নতুন শক্তি বিজেপি। তারা জোট করেছে স্থানীয় ‘আদিবাসী পিপলস ফ্রন্ট’ (আইপিএফটি নামে পরিচতি)-এর সঙ্গে এবং বিস্ময়করভাবে কংগ্রেস সমর্থকরা তাদের ভোট তুলে দিয়েছে বিজেপি জোটের প্রতীকে। ডান ও বামের এ রকম সরাসরি লড়াই ভারতের কোনাে রাজ্যে আগে আর হয়নি। গান্ধীদের কংগ্রেস ত্রিপুরায় একটি আসনও পায়নি।

তিন.
ত্রিপুরায় বাম ফ্রন্টের পরাজয়ের মূল কারণ কী? এটা কি সর্বশেষ মানিক সরকারের ক্যাবিনেটের প্রতি কোনাে সমকালীন বিরাগের ফল কিংবা কমিউনিস্টদের প্রতি বিক্ষোভজাত? প্রচারমাধ্যম দুটিই বলছে। কিন্তু কার্যত ত্রিপুরার স্থানীয়দের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কারণ আরাে গভীরে।

আমরা অনেকেই হয়তো জানি, ব্রিটিশ শাসন আমলে ত্রিপুরা ছিল প্রিন্সলি স্টেইল অর্থাৎ ‘স্বাধীন রাজ্য’। ত্রিপুরা ভারতভুক্ত হয়েছে দেশ ভাগের দুই বছরের বেশি সময় পর ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর। স্বাধীন একটি জনপদের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলার পরবর্তী অধ্যায় ত্রিপুরায় ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক বেদনাময়। ১৯৪১ সালে প্রিন্সলি স্টেইট ত্রিপুরার ৫ লাখ জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ ছিল ট্রাইবাল। প্রায় আট দশক শেষে ওই ট্রাইবালরা নিজ বাসভূমে এখন মাত্র ৩০ শতাংশের মতো।

পুরো চিত্রটি আরো পরিষ্কার করার জন্য খানিক পেছন থেকে পরিসংখ্যান দিচ্ছি আবারও। ১৯০১ সালে ত্রিপুরায় লোকসংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ, ট্রাইবালরা ছিল ৫৩ শতাংশ। ১৯৪১ সালে লোকসংখ্যা ছিল ৫ লাখ, ট্রাইবালরা ছিল ৫৩ শতাংশ। ১৯৮১ সালে লোকসংখ্যা দাঁড়ায় ২০ লাখ। ট্রাইবালরা পরিণত হয় ২৮ শতাংশে। ২০১১ সালে ত্রিপুরায় জনসংখ্যা হয় ৩৭ লাখ। ট্রাইবালরা তার ৩০ শতাংশ এবং বাঙালিরা ৭০ শতাংশ হয়ে যায়। এরূপ চিত্র থেকে অনুমান করা শক্ত নয়, ত্রিপুরায় ক্ষমতার ভারসাম্য বাঙালিদের দিকে হেলে পড়েছিল দীর্ঘদিন। আর এটাই ছিল তিপরা জাতীয়তাবাদের গোড়ার বেদনা। বরাবরই দেববর্মাসহ স্থানীয় প্রায় ১৮টি স্থানীয় জাতিসত্তা ক্ষমতার ওই ভারসাম্যের বিরুদ্ধে লড়েছে কখনো সশস্ত্রভাবে, কখনো ভোটের সমীকরণে। ১৯৭৭ পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাম ফ্রন্ট দীর্ঘ ৩০ বছরে একবারই কংগ্রেসের কাছে ক্ষমতা হারিয়েছিল– যেভার কংগ্রেস আদিবাসী দল ত্রিপুরা উপজাতি যুব সমাজের সঙ্গে জোট করেছিল বলে।

সিপিএম সরকার ট্রাইবালদের স্বাধিকার ছাড়া অন্য সব চাওয়া-পাওয়ার প্রতি বরাবরই সহানুভূতিশীল ছিল। উপরন্তু স্থানীয় বামপন্থীরা দুর্নীতিমুক্ত সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও ভারতজুড়ে বিশেষ খ্যাতি পেয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিতে সিপিএম-এর ত্রিপুরা প্রধান মানিক সরকার প্রকৃতই এক দারুণ ব্যতিক্রম। অর্থ-বিত্ত সংগ্রহে তার অনাগ্রহ তাকে সমালোচনা করা দুরূহ করে রেখেছে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার সময় আয়-রোজগারের যে বিবরণ মানিক সরকার দিয়েছেন এতে দেখা গেছে, ৬৯ বছর বয়সী ওই রাজনীতিবিদের ব্যাংক হিসাবে এ মুহূর্তে মাত্র ২ হাজার ৪১০ রুপি আছে উত্তোলনযোগ্য। ভারতের একটি রাজ্যে আড়াই দশক একনাগাড়ে মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরও সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, তিনি সমকালীন ভারতের ২৯ মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সম্পদে সবচেয়ে দরিদ্র। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সৎ হওয়াই আদিবাসীদের কাছে একমাত্র আকর্ষণীয় ব্যাপার ছিল না।

এসবের বাইরের ত্রিপুরায় ট্রাইবালদের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রায় ৩১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে সিপিএম। কিন্তু রাজ্যজুড়ে বাঙালিত্বের যে জয়জয়কার এবারের নির্বাচনী রায় হলো ঐতিহাসিক ওই বাস্তবতার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত এক বিস্ফোরণ অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে বিজেপির আন্তরিক মদদ পেয়ে ৩৭ শতাংশ ট্রাইবাল ভোট এবার কোনােরূপ বিভক্ত হয়নি। আর ট্রাইবালদের জন্য সংরক্ষিত ২০টি আসনেই বাম ফ্রন্ট সবচেয়ে খারাপ করেছে।

অন্যদিকে বাম ফ্রন্ট কেন বাঙালিদের ভোটও আগের মতো পায়নি সেটিও হয়তো একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু এরও উত্তর রয়েছে। ত্রিপুরার নির্বাচনের সম্ভাব্য ত্রিমুখী চরিত্র বন্ধ করতে বিজেপি গত দু’বছর কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রায় সব নেতাকে তাদের ঘরে নিয়ে এসেছিল। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি ভোটারদের মধ্যে বহু দশক ধরে যারা পারিবারিকভাবে কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন তারা নির্বাচনের আগেই বিজেপি ক্যাম্পে চলে আসে। ত্রিপুরায় কংগ্রেসপন্থী বাঙালিদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন অতীতের অভিবাসী। সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে ওইসব মানুষ জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থানের বার্তাটি ভালোভাবে আত্মস্থ করেছিল এবং আবারও বাম ফ্রন্টকে ক্ষমতায় দেখার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিল না। গত ৩০ বছর বিরোধী দলে থাকতে থাকতে পুরনো কংগ্রেসিরা ক্লান্ত ছিল। জাতীয় নির্বাচনে আগামীতে আবারও বামদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট গঠনের সম্ভাবনা তাদের আতঙ্কিত করেছে ওই রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই সিপিএম বিরোধী প্লাটফর্ম হিসেবে তারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা করতে।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, এর আগের নির্বাচনগুলোয় এমনটি ঘটেনি কেন? উত্তরটি পরিষ্কার। স্বাধীনতার পর থেকে ত্রিপুরায় যত নির্বাচন হয়েছে এতে বাম ফ্রন্টের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কংগ্রেস। উভয়ে ছিল বাঙালি প্রভাবিত। এর মধ্যে ট্রাইবালদের একাংশ নিজেদের প্রতিনিধিকে ভোট দিয়েছে। অপরাংশ কংগ্রেস ও সিপিএম-এম’র মধ্যে তাদের প্রতি নমনীয় প্রার্থীকে বাছাই করেছে। ত্রিমুখী ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাম ফ্রন্ট সাংগঠনিক শক্তি ও সুশাসনের জোরে বেরিয়ে এসেছে বার বার।

ট্রাইবালদের আবেগের জায়গাটুকু নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে মাঠে নেমেছিল এবার বিজেপি। প্রথমত. তারা জোট বেঁধেছিল আদিবাসী পিপলস ফ্রন্ট-এর সঙ্গে। অনেক দিন থেকেই আইপিএফটি ত্রিপুরা ভেঙে আদিবাসী এলাকা (যা সমগ্র রাজ্যের প্রায় ৬৮ শতাংশ) নিয়ে ‘টিপরাল্যান্ড’ নামে পৃথক একটি রাজ্য চাইছে। বিজেপি ওই দাবি মেনে নেবে বলে সরাসরি এমন আশ্বাস না দিলেও তারা জানিয়েছে, ‘আদিবাসীদের সব দাবি সহৃদয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। বলা বাহুল্য, নির্বাচনের ওই ফল পিপলস্ ফ্রন্ট টিপরাল্যান্ড-এর দাবিতে আরাে জ্বালানি জোগাবে।

চার.
গত সাত-আট দশকে ত্রিপুরায় আদিবাসীদের জন্য বাম ফ্রন্ট অনেক উন্নয়নধর্মী কাজ করলেও বাম ফ্রন্ট ও কংগ্রেসের শাসন মানেই ছিল রাজ্যে বাঙালির শাসন। কিন্তু স্থানীয় আদিবাসীরা, বিশেষত ট্রাইবাল তরুণরা তথাকথিত উন্নয়নের চেয়েও ত্রিপুরার ক্ষমতা কাঠামোয় দেখতে চায় নিজেদের সংস্কৃতির মানুষকে। এটা তাদের ১৯৪৯ সালে হারিয়ে ফেলা স্বাধীনতার এক ধরনের সামান্য সুরাহা হিসেবে দেখছিল তারা এবং তা-ই হয়েছে শেষ পর্যন্ত। নির্বাচনে বিজেপির জোটসঙ্গী হয়ে আদিবাসী পিপলস ফ্রন্ট-এর ৯ প্রার্থীর আটজনই জিতেছেন। এর মধ্য দিয়ে তারা ভোটের ফলে নিজেদের নির্ধারক ভূমিকায় দেখেছেন। ওই ফলের প্রতীকী বার্তাটি তাই পরিষ্কার : বাঙালিত্বের আধিপত্য পরাজিত হলো ত্রিপুরায়। ত্রিপুরার নির্বাচনে লড়াই হয়েছিল অবদমিত আদিবাসী আবেগের সঙ্গে অধিপতি বাঙালিত্বের। এটাকে সাম্যবাদ বনাম পুঁজিতন্ত্রের লড়াই আকারে দেখালে ভোটযুদ্ধের মূল মর্মটুকু বিকৃত করা হয় মাত্র।

এর অর্থ আবার এও নয়, ভারতে সিপিএম বা বাম ফ্রন্টের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। ওই সমর্থন না থাকাটা ভিন্ন একটা এজেন্ডা। ত্রিপুরার মামলাটি ভিন্ন।