তৃতীয় দিনে চালকের আসনে শ্রীলঙ্কা

তৃতীয় দিনে চালকের আসনে শ্রীলঙ্কা

• যৌথভাবে লঙ্কান হিসাবে দ্রুততম ১ হাজার রানের মাইলফল ছুলেন ধণাঞ্জয়া ডি সিলভা, সঙ্গী রয় ডিয়াজ।
• ‎
টেস্টে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেললেন ধণাঞ্জয়া, আউট হওয়ার আগে করেন ১৭৩ রান।
• ‎
জন্মদিনে সেঞ্চুরি করলেন কুশল মেন্ডিস। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার ১৯০ এর ঘরে আউট হলেন তিনি। দুবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে।
• ‎
শূণ্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ধণাঞ্জয়ামেন্ডিসের ৩০৮ রানের জুটি নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিলো অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকার্টনিউডফুলের। ১৯২৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩৫ রানের জুটি গড়েছিলেন এই দুজন।

দিনশেষে স্কোর: বাংলাদেশ ৫১৩; শ্রীলঙ্কা ৫০৪/

 

প্রথম সেশন

আগের দিন ১৮৩/ নিয়ে দিন শেষে লঙ্কানদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে দিনের শুরুতেই দ্রুত কিছু উইকেট দরকার ছিলো বাংলাদেশের। অপরদিকে ম্যাচের লাগাম ধরার জন্য লঙ্কানরা তাকিয়ো ছিল ধণাঞ্জয়ামেন্ডিসের দিকে। শুরুতে মোস্তাফিজ বেশ কবার এই দুজনের পরীক্ষা নিলেও কাঙ্খিত উইকেটের দেখা পাননি। শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে দ্রুতই উইকেটে রাজ করা শুরু করেন ধণাঞ্জয়ামেন্ডিস। স্পিন ধরবে, এই আশায় তিন স্পিনার নিয়ে নামা বাংলাদেশের পরিকল্পনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খেলেছেন চমৎকার সব শট। দ্বিতীয় দিনের মতোই ইমরুলমিরাজের জুটি দেখা গিয়েছে সকালেও। তাদের ক্যাচ ধরার অনীহা!তে বঞ্চিত হয়েছেন মোস্তাফিজ আর হাসি চওড়া হয়েছে মেন্ডিসের। বায়ান্নতম ওভারে মোস্তাফিজকে চার মেরে ২০০ রানের পার্টনারশিপ পূর্ণ করেন ধণাঞ্জয়ামেন্ডিস। তখনই আঁচ করা যাচ্ছিলো যে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কানদের চেপে ধরার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। আর ধারণাকে সত্য প্রমাণিত করে পুরোটা সেশনেই দাপটের সাথে ব্যাটিং করেছেন এই দুজন। প্রায় প্রত্যেক ওভারেই আসছিলো বাউন্ডারি। এরই মাঝে জন্মদিনে নিজের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরিটি তুলে নেন মেন্ডিস। মেন্ডিসের সেঞ্চুরির পর ১৫০ রানের ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন ডি সিলভা। তার একটু পরে পৌছে যান ১০০০ রানের ল্যান্ডমার্কে। ছুঁয়ে ফেলেছেন দ্রুততম লঙ্কান হিসাবে হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া রয় ডিয়াজকে। তাদের দুজনের ব্যাটে সেশনটা হয়ে যায় শুধুই শ্রীলঙ্কার। প্রথম সেশন লঙ্কানরা শেষ করে ২৯৫/ এ। ডি সিলভা এবং মেন্ডিস অপরাজিত ছিলেন যথাক্রমে ১৭০ এবং ১২৫ রানে।

প্রথম সেশন শেষে স্কোর : বাংলাদেশ ৫১৩; শ্রীলঙ্কা ২৯৫/

সেশন হিরো: ধণাঞ্জয়া ডি সিলভা

 

দ্বিতীয় সেশন

দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও হয় রেকর্ড দিয়েই। প্রথম সেশনে রানের সাথে আর পাঁচ রান যোগ করে শূণ্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর প্রথম ৩০০ রানের জুটি দেখলো ক্রিকেট। এর কিছুক্ষণ পরেই আসে বাংলাদেশের জন্য চরম কাঙ্খিত মুহুর্তটি। নতুন বল পেয়েই মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। তার সে আস্থার প্রতিদান ফিজ দিয়েছেন ডি সিলভাকে লিটনের ক্যাচে পরিণত করে। ভেঙ্গেছেন ৩০৮ রানের ম্যারাথন জুটি। ২১টি চার আর একটি ছক্কার সাহায্যে ডি সিলভা করেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৭৩ রান। খেলেছেন ২২৯ বল। সেশনের শেষ হবার ঠিক আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সময়টা বাংলাদেশের জন্য শুধুই হতাশার। মেহেদির বলে লিটন মেন্ডিসকে স্ট্যাম্পিং করার মোক্ষম সুযোগটা হাতছাড়া করলে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন এই ওপেনার। মোস্তাফিজ একাধিকবার আশা জাগালেও বাকিরা ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ। মেহেদিকেই চার মেরে ১৫০ রান স্পর্শ করেন মেন্ডিস। তার ঠিক পরের ওভারেই মেন্ডিস ফিরতে পারতেন ড্রেসিংরুমে রোশানমেন্ডিসের ভুল বোঝাবুঝিতে দুজনই যখন ক্রিজের মাঝখানে তখন মিরাজ যেন শোধ নিলেন তার বলে লিটনের স্ট্যাম্পিং মিসের ক্ষোভের। আশ্চর্য এক থ্রোতে নিশ্চিত রান আউটের খড়্গ থেকে রক্ষা করলেন মেন্ডিসকে। আকর্ণ হাসিতে ভরে উঠে মেন্ডিসের মুখ। রানের মাথায় যেখানে ফিরে যাবার কথা সেখানে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের এই অনাকাঙ্খিত সৌজন্যের জবাব মেন্ডিস দিয়েছেন স্ট্রোকের দ্যুতি ছড়িয়ে। তাইজুল এবং মোসাদ্দেককে দু ওভারে মেরেছেন পরপর দুটি করে চার। এখানেই না থেমে মোসাদ্দেকের আরো একটি ওভারের পরপর দু বলে মেরেছেন চার আর ছয়। দ্বিশতকটা যখন অবশ্যাম্ভি বলে মনে হচ্ছিলো তখনই যেন ভাগ্যের নির্মম রুপটি দেখলেন মেন্ডিস। তাইজুলকে এগিয়ে এসে মাঠ ছাড়া করতে গিয়ে মুশফিকের অসাধারণ ক্যাচের শিকার হন তিনি। থামে ১৯৬ রানের ইনিংসটি। এরচেয়ে সহজ সুযোগ দিয়েও পার পেয়ে যাওয়া মেন্ডিস চাইলে মুশফিককে অভিশাপ দিতেই পারেন। বাংলাদেশের ফিল্ডাররাও যে ক্যাচ ধরতে যানে সেটি প্রমাণের জন্য মুশফিক অমন অসাধারণ ক্যাচটি না নিলেও পারতেন। দ্বিতীয়বারের মতো ১৯০ রানের ঘরে আউট হলেন মেন্ডিস। দুবারই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। আউট হবার আগে অবশ্য রোশান সিলভার সাথে গড়েন ১০৭ রানের জুটি। ৩২৭ বলের এই ইনিংসটিতে ছিলো ২২টি চার এবং দুটি ছয়ের মার। সেশনের শুরু আর শেষেই যা একটু হাসি ফুটেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মুখে।

দ্বিতীয় সেশন শেষে স্কোর : বাংলাদেশ ৫১৩; শ্রীলঙ্কা ৪১৬/

সেশন হিরো: কুশল মেন্ডিস

 

তৃতীয় সেশন

দ্বিতীয় সেশনের শেষটা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ঠোটে হাসি ফোটালেও শেষ সেশনে তা হতাশায় রুপান্তরিত করেছেন রোশান সিলভা এবং চান্দিমাল।  অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন তারা। সেশনের শুরুতেই দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা রোশান তুলে নেন তার দ্বিতীয় অর্ধশতক। দিনের বাকিটা সময় বাংলাদেশের বোলাররা শুধু হাত ঘুড়িয়েছেন এবং লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান ব্যাটিং প্র্যাক্টিস করছিলেন বলেই মনে হয়েছে। স্পিন জুজুর পিচে দুজনের সামান্যতম পরীক্ষাও নিতে পারেনি কেউ। সানজামুল দাড়িয়ে আছেন অভিষেকে সবচেয়ে বাজে বোলিং রেকর্ড থেকে নিঃশ্বাস দুরত্বে। অভাবনীয় কিছু না ঘটলে এই টেস্টের ভাগ্যে ড্রই লেখা হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ এর থেকে মাত্র নয় রানে পিছিয়ে কালকের দিন শুরু করবে শ্রীলঙ্কা।

তৃতীয় সেশন শেষে স্কোর : বাংলাদেশ ৫১৩; শ্রীলঙ্কা ৫০৪/

সেশন হিরো: রোশান সিলভা