৪৩-এই শেষ বাংলাদেশ!

৪৩-এই শেষ বাংলাদেশ!

• টেস্টে নিজেদের সর্বনিন্ম ৪৩ রানে অল আউট বাংলাদেশ।
• ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটি কোনো দলের সর্বনিন্ম স্কোর।
• দু অংকের ঘরে গিয়েছেন শুধু লিটন দাস।
• মুশফিক, সাকিব, রিয়াদ এবং রাব্বি ফিরেছেন ০ রানে।
• ৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন রোচ, কামিন্সের সংগ্রহ ৩টি।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিন্ম রানের রেকর্ডটি নতুন করে লিখে উইন্ডিজ সফর শুরু করল বাংলাদেশ! কেমার রোচের বোলিং তোপে মাত্র ৪৩ রানেই গুটিয়ে গিয়েছে টাইগাররা। দু অংকের ঘরে গিয়েছেন শুধু মাত্র লিটন দাস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ রান! করেছেন রুবেল। পাঁচ উইকেট নিতে রোচের খরচ হয়েছে মাত্র ৮ রান।

অ্যান্টিগার স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ক্যারাবিয়ান অধিনায়ক হোল্ডার। কিন্তু তার মুখের হাসি অম্লান রাখতে লাঞ্চের আগেই যে সদলবলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরবে বাংলাদেশ এটি বোধয় রোচ নিজেও ভাবেননি।

বিপর্যয়ের শুরু চতুর্থ ওভারেই, দলীয় ১০ এবং ব্যক্তিগত ৪ রানের মাথায় রোচের বলে উইকেটের পিছনে ডারউইচের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিমের ফেরার মধ্য দিয়ে। টেস্টে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা মুমিনুলও টিকলেন মাত্র ৩ বল। ১ রান করে রোচের বলে গালিতে হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি।

এরপর যা হল তা রীতিমত ভয়াবহ। ১৬ রানে দু উইকেট থেকে মুহুর্তেই ১৮ রানে পাঁচ উইকেটে পরিণত বাংলাদেশ। রোচের তোপে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরলেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিক-সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। এরপর নুরুলকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন লিটন। কিন্তু খামখেয়ালিপনার চূড়ান্ত নজির গড়ে কামিন্সকে অহেতুক তুলে মারতে গিয়ে চেজের তালুবন্দি হলে শেষ হয়ে যায় লিটনের ২৫ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ৩৪। লিটনের বিদায়ের সাথে সাথেই চোখ রাঙাচ্ছিল টেস্টে নিজেদের সর্বনিন্ম রানের রেকর্ডটি।

সে লজ্জা থেকে বাঁচার মত কিছুই করতে পারেনি বাংলাদেশের বাকি ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ রানে ৬ উইকেট থেকে ৪৩ এই অল আউট বাংলাদেশ। নিজেদের সর্বনিন্মের পাশাপাশি উইন্ডিজকেও আনন্দের একটি রেকর্ড উপহার দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটিই কোনো দলের সর্বনিন্ম স্কোর।

রক্ষা যে পেশিতে টান পড়ায় আর বোলিংয়ে আসেননি রোচ। নতুবা কে জানে টেস্টেই সর্বনিন্ম রানের রেকর্ডটি নতুন করে লিখতে হত কিনা! অথচ, এমন ভয়াবহ কোনো বোলিংও হয়নি। স্কোরকার্ড দেখে যে কেউ কথাটিতে আপত্তি তুলতে পারেন। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে থাকলে আপত্তি ভুলে বরং যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠাতে পারেন যে কেউ।

হালকা ঘাসে ঢাকা পিচ, সাথে আকাশে সামান্য মেঘ। এ কন্ডিশনে একটি সেশনও পুরো খেলতে না পারার কোনো ব্যাখ্যা নেই। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই আউট হয়েছেন উইকেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মারতে গিয়ে। টেস্টের যে টেম্পারম্যান্ট তা ছিল পুরো অনুপস্থিত। এ অবস্থায় কাকে দায় দিবেন সাকিব? দেশের মাটিতে ক্রমাগত আনস্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে খেলার খেসারত বলা যায় এটিকে। এ থেকে কতটা শিক্ষা নেয় বাংলাদেশ সেটিই এখন দেখার বিষয়।