ম্যানবুকার পুরস্কার বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর পূর্ণ-দৈর্ঘ্য ইংরেজি ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাসকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
১৯৬৯ সালে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ৫০তম বছর উদযাপনের লক্ষ্যে দ্যা বুকার ফাউন্ডেশন এবার গোল্ডেন ম্যানবুকার প্রাইজ এর আয়োজন করছে। এবং বিশ্বসেরা সাহিত্যিক নির্বাচনে এবার তারা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। সাহিত্যে গত পাঁচ দশকের সেরা কাজগুলোর মধ্য থেকে বেছে নেয়া হবে একজনকে। কিন্ত কার মাথায় যাবে এই বিশ্বসেরার মুকুট? সেটা বাছাই করার জন্যে প্রথমে ৫ দশকের জন্যে ৫ জন বিচারক ঠিক করা হয়েছে। তারা নিজেদের মতো করে গত ৫ দশকে ম্যানবুকার জয়ী সাহিত্যিকদের মধ্য হতে বেছে নেবেন একজন করে এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে বাছাই করা হবে সেরা একজনকে।
১৯৬৯ সালে প্রথমবার এই পুরস্কার দেয়া হয়। এরপর থেকে এটা ইংরেজি সাহিত্যের শীর্ষ পুরস্কার হিসেবে পৃথিবীব্যাপি স্বীকৃতি পায়। এ বছর গোল্ডেন ম্যানবুকার পুরস্কার প্রদানের জন্যে এযাবত ৫১টি পুরস্কার জয়ী সাহিত্যকর্মকে আমলে আনা হবে এর মধ্যে থেকেই বেছে নেয়া হবে একটি।
কিন্ত কারা এই বিচারিক কাজে জুরি হিসেবে অংশ নেবেন? সত্তরের দশকের বুকারজয়ী বইগুলোর বিচারিক কাজে থাকবেন লেখক ও সম্পাদক রবার্ট ম্যাকক্রাম। আশির দশকের জন্যে আছেন কবি লেম সিসে এবং নব্বইয়ের দশক দেখবেন ঔপন্যাসিক কামিলা শামসি। ২০০০-০৯ এবং ২০১০-২০১৭ পর্যন্ত পুরস্কৃত বইগুলোর বাছাই কাজে থাকবেন যথারীতি ঔপন্যাসিক সাইমন ম্যায়ো এবং কবি হোলি ম্যাকনিশ। সেখান থেকেই নির্বাচিত হবে আকাঙ্ক্ষিত গোল্ডেন বুকার-জয়ী বইটি।
সবগুলো উপন্যাস পড়ার পর গুরুত্ব ও তাৎপর্য্য বিবেচনায় প্রত্যেক বিচারক তার নিজের মতানুসারে একজন সাহিত্যিককে বাছাই করবেন এবং এভাবে পাঁচ জন বিচারকের নির্বাচিত পাঁচ সাহিত্যিক একজন আরেকজনের সাথে লড়বে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটের জন্যে। বিচারকদের পাঁচ জনের এই তালিকা প্রকাশিত হবে মে মাসের ২৬ তারিখ ‘হে ফেস্টিভ্যাল’-এ। পরবর্তীতে ম্যানবুকারের ওয়েবসাইটে অনলাইন গণভোটের উদ্দেশ্যে ২৬ মে থেকে ২৫ জুন, এই এক মাসের জন্যে ভোট নেয়া হবে এবং যেকোনো আগ্রহী পাঠক এই ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারবেন।
বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশন এর প্রধান ব্যারনেস হেলেনা কেনেডি বলেন, “শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম সেটাই যা প্রকাশের অনেক বছর পরেও পাঠকদের মন জয় করতে পারে। আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছি এটা দেখতে যে কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদকদের নিয়ে গড়া আমাদের বিচারিক দল কোন কোন সাহিত্যিকের কাজ নির্বাচন করেন। এবং সেই তালিকা থেকে আজকের পাঠকগণ কার সাহিত্যকর্মকে বেছে নেন শ্রেষ্ঠ হিসেবে।”
গোল্ডেন ম্যানবুকার পুরস্কারকে যুক্তরাজ্যে সমর্থন ও প্রচারণা করা হবে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা, প্রকাশক এবং লাইব্রেরীর মাধ্যমে এবং অনলাইনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ফেস্টিভালের প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। আগ্রহী পাঠকেরা ইতোমধ্যে ইন্সটাগ্রামে হ্যাশট্যাগ ‘ম্যানবুকারপ্রাইজ৫০’ এর মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন কে কতগুলো বই পড়ছেন। তাদের মধ্য থেকেই যে ভাগ্যবান কয়েকজন সুযোগ পাবেন বুকার ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করার।
লন্ডনের সাউথ ব্যাংক সেন্টারে ‘দ্যা ম্যান বুকার ফিফটি ফেস্টিভাল’ চলবে আগামী জুলাই এর ছয় তারিখ থেকে আট তারিখ পর্যন্ত। সাউথ ব্যাংক সেন্টারের রয়্যাল ফেস্টিভাল হল, কুইন এলিজাবেথ হল এবং পারসেল রুম এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠান। থাকবেন ম্যান বুকার প্রাইজ জয়ী বিভিন্ন সাহিত্যিকগণ।
উল্লেখ্য, ম্যানবুকার পুরষ্কারটি যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘ম্যান গ্রুপ’ পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এখানে দশকধরে বিচারক অনুযায়ী পঞ্চাশটি বইয়ের তালিকা দেয়া হলো–
দশক বিচারক বইয়ের নাম, লেখক ও পুরস্কারপ্রাপ্তির বছর
১৯৭০-৭৯ |
রবার্ট ম্যাক্রাম |
সামথিং টু এন্সার ফর, পি এইচ নিউবি (১৯৬৯) দ্য ইলেক্টেড মেম্বার, বার্নিস রুবেন্স (১৯৭০) ইন এ ফ্রি স্টেট, ভি এস নাইপল (১৯৭১) জি., জন বার্গার (১৯৭২) দ্য সিজ অফ কৃষ্ণাপুর, জে জি ফেরেল (১৯৭৩) দ্য কনজারভেশোনিষ্ট, নাদিন গর্ডিমার, ১৯৭৪ হলিডে, স্টেনলে মিডলটোন (১৯৭৪) হিট এন্ড ডাষ্ট, রুথ প্রোয়ার ঝাবভালা (১৯৭৫) স্যাভিলি, ড্যাভিড স্টোরে (১৯৭৬) স্টেয়িং অন, পৌল স্কোট (১৯৭৭) দ্য সি, ইরিস মার্ডক (১৯৭৮) অফশোর, ল পেনালোপ ফিতজেরাল্ড (১৯৭৯)
|
১৯৮০-৮৯ | লেম সিসে |
রাইটস অফ প্যাসেজ, উইলিয়াম গোল্ডিং (১৯৮০) মিডনাইটস চিলড্রেন, সালমান রুশদি (১৯৮১) শিন্ডলার্স আর্ক, থমাস কেনেয়ালি (১৯৮২) লাইফ এন্ড টাইমস অফ মাইকেল কে, জে এম কোয়েতজে (১৯৮৩) হোটেল ডু লাক, আনিতা ব্রুকনার (১৯৮৪) দ্য বোন পিউপল, কেরি হাম (১৯৮৫) দ্য ওল্ড ডেভিলস, কিংস্লে এমিস (১৯৮৬) মুন টাইগার, পেনালোপ লিভলি (১৯৮৭) অস্কার এন্ড লুসিনডা, পিটার ক্যারে (১৯৮৮) দ্য রিমেইন্স অফ দ্য ডে, কাজুও ইশিগুরো (১৯৮৯)
|
১৯৯০-৯৯ | কামিলা শামসি |
পোজেশোন, এ এস বায়াট (১৯৯০) দ্য ফামিশড রোড, বেন অকরি (১৯৯১) দ্য ইংলিশ প্যাশেন্ট, মাইকেল অন্দাতজে (১৯৯২) স্যাক্রেড হাঙ্গার, ব্যারি আনসৌয়ার্থ (১৯৯২) প্যাডি ক্লার্ক হাহাহা, রোডি ডয়েল (১৯৯৩) হাউ লেইট ইট ওয়াজ, হাউ লেইট, জেইমস কেলম্যান (১৯৯৪) দ্য গোষ্ট রোড, প্যাট বার্কার (১৯৯৫) লাষ্ট অর্ডার্স, গ্রাহাম সুইফট (১৯৯৬) দ্য গড অফ স্মল থিংস, অরুন্ধতী রয় (১৯৯৭) এমস্টারডাম, ইয়ান ম্যাকোয়ান (১৯৯৮) ডিসগ্রেস, জে এম কোয়েতজে (১৯৯৯)
|
২০০০-২০০৯ | সিমন মায়ো |
দ্য ব্লাইন্ড এসাসিন, মার্গারেট এটউড (২০০০) ট্রু হিস্টোরি অফ দ্য কেলি গ্যাং, পিটার ক্যারে (২০০১) লাইফ অফ পাই, ইয়ান মারটেল (২০০২) ভারনন গড লিটল, ডিবিসি পিয়েরে (২০০৩) দ্য লাইন অফ বিউটি, এলান হলিংহার্ষ্ট (২০০৪) দ্য সি, জোন বানভ্যালি (২০০৫) দ্য ইনহেরিটেন্স অফ লস, কিরান দেসাই (২০০৬) দ্য গ্যাদারিং, এনে এনরাইট (২০০৭) দ্য হোয়াইট টাইগার, অরবিন্দ আদিগা (২০০৮) উলফ হল, হিলারি ম্যান্টেল (২০০৯)
|
২০১০-২০১৭ | হোলি ম্যাকনিশ |
দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন, হওয়ার্ড জ্যাকবসন (২০১০) দ্য সেন্স অফ এন এন্ডিং, জুলিয়ান বার্নস (২০১১) ব্রিং আপ দ্য বডিস, হিলারি ম্যান্টেল (২০১২) দ্য লুমিনারিজ, ইলিয়ানর ক্যাটন (২০১৩) দ্য ন্যারো রোড টু দ্য ডিপ নর্থ, রিচার্ড ফ্ল্যানাগান (২০১৪) এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ সেভেন কিলিংস, মার্লন জেমস (২০১৫) দ্য সেল-আউট, পল বেট্টি (২০১৬) লিঙ্কন ইন দ্য বার্ডো, জর্জ সৌন্ডার্স (২০১৭)
|
অপেক্ষায় থাকলাম।