নিয়মিত কফি পান করলে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি হয়। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য এক কাপ কফির জুড়ি নেই। শুধু কী তাই? অফিসে কাজের ফাঁকে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো, সারা দিন কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পর সবকিছুর মাঝে একটুখানি প্রশান্তি যেন এক কাপ কফি। অনেকেই মনে করেন, কফি শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আসলে তা নয় নিয়মিত কফি পান করলে আমাদের শরীরে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি।
ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গবেষকরা কফির প্রভাব নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। তারা জানান, দিনে অন্তত ৩-৪ কাপ কফি খেলে শরীরে সে রকম কোনো গুরুতর প্রভাব পড়ে না। তবে কেউ যদি ঘন ঘন কফি পান করে তাহলে তার নানান রকম ক্ষতি হতে পারে। আসুন, জেনে নিই কফি আমাদের কী কী উপকার করে।
১. কফি মাথা ব্যাথা কমাতে বেশ কার্যকর। বেশি মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের ওষুধে সামান্য পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে।
২. কফি খুবই কার্যকর এন্টিঅক্সিডেন্ট।
৩. ডায়াবেটিক কন্ট্রোলে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ কফি পান করলে হার্টের অসুখ নিয়ন্ত্রণ হয়, ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. ত্বকের ক্যানসার থেকে রক্ষা করে কফি। নিয়মিত কফি পান করলে স্কিন ক্যান্সার ও দেহের অন্য অংশে ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে।
৫. কফি উত্তেজনা কমায়। যাদের উত্তেজনার কারণে রাতে ভালোভাবে ঘুম হয় না, তারা শোবার আগে কিছুক্ষণ কফির গন্ধ শুকতে পারেন। কফির অ্যারোমা আপনার উত্তেজনা কমিয়ে দেবে।
৬. চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে কফি। সপ্তাহে একদিন কফি বিন অথবা কফি ডাস্ট পানিতে জ্বাল দিয়ে চুলে লাগালে চুলপড়া কমে যাবে। চুল হবে উজ্জ্বল সিল্কি।
৭. রূপচর্চায় কফি ডাস্ট ভালো স্ক্রাবের কাজ করে। কফি প্যাক মুখের রোদে পোড়া ও এন্টিরিংকেল দূর করে।
৮. পারফিউমের সঠিক ঘ্রাণ বুঝতে সাহায্য করে কফি। সাধারণ নিয়ম হচ্ছে আলাদা আলাদা তিনটার বেশি পারফিউমের ঘ্রাণ নিলে সঠিক ঘ্রাণটা আর পাওয়া যায় না। তাই সঠিক সুবাস পাওয়ার জন্য প্রতিবার পারফিউমের ঘ্রাণ নেয়ার আগে একবার কফিবিন অথবা কফির সুবাস নিন। তাহলে আপনি সুবাসের ক্ষেত্রে যেটা চাচ্ছেন সেটাই পাবেন।
৯. আলঝাইমারস হতে দেয় না কফি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগ দেখা দেয়। নিয়মিত কফি পান করলে আলঝাইমারসের আশঙ্কা কমে।
তো কফি পানকে ভয় না পেয়ে নিয়মিত ও পরিমিত কফি পান করুন এবং আপনার আপনজনদের মাঝে যারা এই সমস্যাগুলোতে ভুগছে তাদের কফির উপকারিতা সম্পর্কে বলুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।