ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বলিউড তারকাদের সঙ্গে তোলা সেলফি নিয়ে ভারত ও ইসরায়েলের মিডিয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সেলফিতে অনেক বাঘা তারকাকে দেখা গেলেও বলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিন খানকে কেন দেখা যাচ্ছে না তা নিয়ে ভক্তদের মনে প্রশ্ন থাকলেও মিডিয়া গসিপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে শুরু হয়েছে রসালো সব প্রচারণা। মুখরোচক মিডিয়াগুলো পক্ষে-বিপক্ষে নানান খবর তৈরি করে জনমনে ওই প্রশ্নটি আরাে চাউর করে তুলেছন- কেন তিন খান নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেননি? কেন প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ।
নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছিলেন, তার ওই সেলফিতে বলিউডের সব বড় তারকা থাকবেন। প্রভাবশালী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন সরবে হাজির থাকলেও মূল ক্ষমতাধর তিন খানই নেই। ফলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর আশাটি ঠিক পরিপূর্ণ হলাে না- এমনটা বলাই যায়। এক টুইট বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ওই সেলফি নিয়ে তার উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর টুইটারে দেয়া ওই ছবিটি শেয়ার দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সুন্দর বন্ধন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী!’
বলিউডে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা-র উপস্থিতিতে ‘শ্যালম বলিউড’ তথ্যচিত্রের প্রদর্শনী ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই, করন জোহরের মতো বাঘা বাঘা তারকা হাজির হন। শাহরুখ খান, আমির খান ও সালমান খান- তিন খানের কোনাে খানই ওই অনুষ্ঠানে আসেননি।
বলিউডের বিখ্যাত তারকারা মিলিত হয়েছিলেন মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই নৈশভোজে। টাইমস অফ ইসলামাবাদ জানায়, প্রখ্যাত তারকারা আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে হাজির হলেও তিন খানের একজনও অংশ নেননি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয়রা এ নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছেন। বলা হয়েছে, বলিউডে কি জাতিভেদ ও গোষ্ঠীবাদের চর্চাও হয়ে থাকে? ইহুদি অভিনেতাদের বিশেষ অনুষ্ঠান হওয়ার কারণে কিংবা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় কি ওই তিনজনের একজনও আসেননি এতে?
অন্যদিকে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও অসহায় নির্দোষ মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে এমনটি করে থাকতে পারেন বলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এর প্রশংসাও করেছেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সবাইকে একটি সেলফি তোলার আমন্ত্রণ জানান নেতানিয়াহু। সবাই এক সঙ্গে সেলফির জন্য দাঁড়িয়ে যান, এমনকি অমিতাভ বচ্চন সেলফিস্টিক ধরে ছবি তোলেন। নেতানিয়াহু বলেন, এটিই অামার এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভালাে সেলফি।
অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু ভারতীয় পরিচালক ও প্রযোজকদের ইসরায়েলে সিনেমার শুটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ভারতীয় সিনেমা শিল্পের মধ্যে একটা মধুর রসায়ন সম্ভব। আমাদের বন্ধুত্বের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে সিনেমা।
ওই নৈশভোজে পরিচালক ইমতিয়াজ আলী, প্রযোজক রনি স্ক্রেউলা, অভিনেতা বিবেক ওবেরয়, সাইফ আলি খানের মেয়ে সারাহ আলি খান, সুভাষ ঘাই, প্রসুন জোশি, অভিষেক কাপুর, নিখিল আদভানি, অভিষেক কাপূর, মধুর ভান্ডারকর ও রাজনায়ক উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ‘নেতানিয়াহু গো ব্যাক’ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্র নির্মাতা আনন্দ পতবর্ধন বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে দাঁড়িয়ে আলজাজিরা-কে বলেন, ‘ভারত আসলে ইসরায়েল নয়, ফিলিস্তিনি জনগণের বন্ধু। তা মুসলিম, খ্রিস্টান অথবা ইহুদি- যাই হোক না কেন।’
বলিউডের ওই অনুষ্ঠানে তিন খানের না থাকার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এলেও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন তা গণমাধ্যমে তেমনভাবে উচ্চারিত হচ্ছে না। তার অবশ্য নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তাধারার কারণেই ইসরায়েল-ভারত সম্পর্কের ব্যাপারে অনীহা রয়েছে। ভারতে বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে জোর দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এটিকে রাহুল গান্ধী তেমনটা গুরুত্বের সঙ্গে নেননি।
ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দিন দিন পাকাপোক্ত হচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে ইসরায়েল প্রথম সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকরা ওই সফরটিকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।