আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে কয়েকজন বন্দুকধারী হোটেলে প্রবেশ করে হামলাটি চালায় বলে জানা গেছে। এসময় তারা হোটেলের ভেতরে ঢুকে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। হোটেলটির অভ্যন্তরে কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরে যায়। দেশটির নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সাথে গুলিবিনিময় হয়েছে। এতে ১৪ জন বিদেশি নাগরিকসহ ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং ৭ জন আহত হয়। ৪১ জন বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় দেড়শ জনকে ভেতর থেকে বাহিরে আনা হয়।
হোটেলটির ভেতরে আফগানদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আটকা পড়েন। তবে হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অবস্থানকারীদের বেশিরভাগই নিরাপদে বাহিরে আসতে সক্ষম হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মূখপাত্র নাজিব দানিশ জানান, চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী হোটেলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছিল। তবে এথনো কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
আফগান সরকারের অপর এক সূত্রে জানা গেছে, ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময়কালে দুইজন হামলাকারী নিহত হয়েছে। অন্তত সাতজন আহত হয়েছে। আহতদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় জানা যায় নি।
বাহিরে পালিয়ে আসতে পারা হোটেল ম্যানেজার আহমাদ হারিস নায়াব জানান, হামলাকারীরা হোটেলের মূল কক্ষগুলোতে প্রবেশে করেছে। তারা পাকঘরের জানালা দিয়ে প্রবেশ করে থাকতে পারে। ভেতরে এসে তারা বিস্ফোরণ ঘটালে সবাই ছুটোছুটি করে পালানোর চেষ্টা করে।
কাবুলে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার হুমকির এক সপ্তাহের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটলো। দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে হামলার হুমকি দিয়ে পোস্ট দেয়া হয়। তবে ওই হুমকিদাতার পরিচয় জানা যায় নি।
এর আগে ২০১১ সালে হোটেলটিতে তালেবানের এক হামলায় কমপক্ষে ১০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারায়। সেবার নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় হামলাকারীদের সবাই নিহত হয়।
আফগানিস্তানের অভিজাত ও বিদেশিদের আনাগোনা সবচাইতে বেশি থাকে এই হোটেলটিতে। হোটেলটি ১০৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮০ সাল থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপ এখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।