দীর্ঘ ১৫ বছর পর ইসরায়েলের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রবিবার ভারত সফরে এসেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটার কিছু আগে ভারতের নামেন তিনি। এ সফরে সাইবার সিকিউরিটি, স্বাস্থ্য, কৃষি বিষয়ক বেশকিছু চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তার সঙ্গে স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৩০ জন ছয় দিনের সফরে এসেছেন।
ইসরায়েলের নবম প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাশীল লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানাতে সরকারি প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে হাজির হন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাসের মাথায় তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর অতিথি হন। তিনি ওই সময় একইভাবে বিমানবন্দরে হাজির থেকে মোদিকে অভ্যর্থনা জানান।
সফরে নয়াদিল্লিসহ মুম্বাই ও গুজরাট যাওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইসরায়েলের হাইফা শহর রক্ষায় জীবন দেয়া ভারতীয় সৈনিকদের স্মরণে দিল্লির ত্রিমূর্তি-হাইফা চকে পুষ্পস্তবক প্রদানের মধ্য দিয়ে সফরের দিন শুরু হয় নেতানিয়াহুর। এছাড়া এই সফরনামায় ভারতের জাতির পিতা গান্ধীর মেমোরিয়ালে উপস্থিত হওয়া ছাড়াও রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের আয়োজন। সেখান থেকে তিনি মুম্বাইয়ে ভারতে বসবাসরত ইহুদিদের প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাণিজ্যিক বৈঠকে বসবেন।
ছবি : হিন্দুস্থান টাইমস।
ভারতের ভূরাজনীতি বিষয়ক বার্ষিক এক সেমিনারের উদ্বোধন করবেন নেতানিয়াহু। ‘রাইসিনা ডায়লগ’ শীর্ষক ওই আন্তর্জাতিক সেমিনারে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন পরমাণু গবেষকসহ অনেকে। এ ছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা আছে বলে জানা গেছে। এ সফরে নেতানিয়াহুর স্ত্রী-পুত্রসহ আসার কথা থাকলেও তার পুত্র ইয়ায়ের আসেননি। নারী কেলেঙ্কারির এক ঘটনায় বিপাকে পড়ে পিতার সফরসঙ্গী হতে পারেননি তিনি।
নেতানিয়াহু ভারতের সিনেমা অঙ্গনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হবেন বলেও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সেখানে বলিউডে কাজ করা ইহুদি অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের স্মরণে তৈরি ডক্যু-ফিল্ম “শ্যালম বলিউড” প্রদর্শনসহ নানান আয়োজন থাকবে। বলিউডের সঙ্গে ইসরায়েলের যৌথ প্রযোজনায় নানান কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও রয়েছে বলে জানান ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মুখপাত্র জিলাড কোহেন।
প্রযুক্তি খাতে সাইবার সিকিউরিটি প্রশ্নে নতুন চুক্তি হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল মোদির গত বছর ইসরায়েল সফরে। ফলে ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ নানান ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর আগে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তারা ইসরায়েল সফর করে চুক্তির প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করে। এমন চুক্তি দিল্লিকে ‘টেক-হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।
রাষ্ট্র হিসেবে প্রায় কাছাকাছি সময়ে জন্ম নেয়া ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক পূর্ণতায় পৌঁছাতে সময় নেয় ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। নেতানিয়াহুর আগে ২০০৩ সালে ওই সময়কার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির আমন্ত্রণে এরিয়েল শ্যারন প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে এসেছিলেন। তবে আচমকা হামলার আশঙ্কায় ওই বছর তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে যেতে হয়েছিল।