২০০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল। সেদিন জুমার নামাজটা মানুষ পড়তে গিয়েছিল একরাশ অবাক স্বপ্ন নিয়ে। ১৫৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাঘের ডেরায় বাঘের দাম্ভিক থাবায় ৮ ওভার শেষে শ্রীলংকার স্কোরবোর্ডে সংগ্রহ ৬ রান, নেই ৫ উইকেট! সেখান থেকে অসাধারণ সাঙ্গাকারার ধৈর্যশীল ফিফটি, রুবেল হোসেনের এক ওভারে ব্যাটসম্যান মুরালির রুদ্রমূর্তি, ২০ রানে ২ উইকেটের পরাজয় বাংলাদেশের। স্বপ্নভঙ্গ। এত কাছে তবু কত দূরে…।
আরেকটি ট্রাই নেশন সিরিজ ৯ বছর পর। ওই বছরের শ্রীলংকা দলের ওপেনার থারাঙ্গা ছাড়া নতুন দলে আর পুরনো কেউ নেই। ছুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লংকানরা এখন যথেষ্ট ব্যালান্সড। নতুন কোচ হাতুরাসিংহের অধীন প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে সিংহের নেতৃত্বে থাকছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় দল এখন পর্যন্ত খেলেছে ৯৮ ম্যাচ। ৪৭ ম্যাচে জয়ের হাসি হেসেছেন। পরাজয় ৪৫ ম্যাচে। বাকি ছয়ের একটি টাই ম্যাচ, ৫টি পরিত্যক্ত। জয়ের গড় ৫১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। লংকান টিমের বড় শক্তি তাদের বোঝাপড়া ও ব্যালান্সড টিম কম্বিনেশন। পেসার দুস্মান্থা সামিরার লাইন লেন্থ সমস্যা আছে ঠিক তবে গতি দিয়ে যে কাউকে ভড়কে দিতে পারেন। গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতির সামিরাকে সঙ্গ দিতে দলে আছেন আরেক পেসার স্নেহান মধুশাঙ্কা যার গতিও গড়ে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটারের ঘরে। বিশ্বস্ত লাকমাল, পেস বোলিং অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা আর স্বয়ং ম্যাথিউসকে নিয়ে পেস ডিপার্টমেন্ট বেশ শক্তপোক্ত তাদের। স্পিনে আকিলা ধনাঞ্জয়া লংকানদের সেরা অস্ত্র। এ তো গেল বোলিং। ব্যাট হাতে যেমন পরীক্ষিত থারাঙ্গা, চান্দিমাল, অধিনায়ক ম্যাথিউস তেমনি কুশল কিংবা থিসারা পেরেরা, আছেন ডিকওয়েলাও। এমন ব্যাটিং লাইনআপ যে কোনো দলেরই মাথা ব্যথার কারণ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। সবচেয়ে বড় কথা, কোচ হাতুরাসিংহে তার বিপক্ষ সম্পর্কে জানেন সবটুকু।
ত্রিপক্ষীয় সিরিজের আরেক দল জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়েনরাও জানেন তারা বাংলাদেশের ঘরের মাটিতে বাঙালির বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না। শ্রীলংকানদেরও কাবু করা মুখের কথা নয়। তবু চেষ্টা করতে মানা কিসের! ওই চেষ্টাতেই ১৫ জানুয়ারি প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক দলের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন তারা। ক্রিকেটে কোনো কিছু অসম্ভব নয় বলে তাদের উড়িয়ে দেয়ার ভাবা যাবে না। দেশটির সাবেক তারকা হিথ স্ট্রিক আছেন প্রধান কোচের দায়িত্বে। দলপতি স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার-এর অধিনায়কত্বে এর আগে জিম্বাবুয়ে খেলেছে ২০ ম্যাচ। ৭ জয়ের বিপরীতে ১১ পরাজয়। ৩৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ জয়ের হার কোনো অংশেই কম নয়। তাই জিম্বাবুয়েকে হেলাফেলা করাটা বোকামিই হবে বাকি দুই দলের জন্য। অবশ্য এমন বোকামি করার মতো বোকা বাঘ-সিংহের কেউই নয়।
খেলাটা নিজ উঠানে। দলটা বাংলাদেশ। যাদের পারফম্যান্সের গ্রাফ প্রতিদিন ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি ডিপার্টমেন্টে সর্বোচ্চ সেরারাই প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের। গত বছরটা শেষ হয়েছিল হতাশায়। এবার তা কাটানোর মিশন। ৯ বছর আগের দলের সবাই নেই। তবে পোড় খাওয়া সাকিব, তামিম আছেন। ইঞ্জুরিতে অনিশ্চিত রুবেল হোসেন ও ইমরুল কায়েস। ওপেনিংয়ে তামিমকে সঙ্গ দিতে তৈরি আছেন দুই বছর পর দলে আসা এনামুল বিজয়। ফিরছেন নিজেকে হারিয়ে খোঁজা মুস্তাফিজ। মুশফিক, রিয়াদ, মাশরাফিরা তো আছেনই।
আগামীকাল যখন ঠিক মাঝদুপুরে শেরেবাংলার হোম ট্র্যাকে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, বাংলা ক্যালেন্ডারে তখন ২ মাঘ। মাঘের শীতে বাঘ কি কাঁপবে? ১১ বাঘ কাঁপুক বা না কাঁপুক, মিরপুরের গ্যালারি ঠিকই কাঁপবে। বছরের প্রথম ম্যাচে মাঘের স্বাদ নেবেন সবাই। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ, নাকি মাঘের শীতে বাঘও কাঁপে- বছরের প্রথম ম্যাচের সন্ধ্যায় কোনো প্রবাদের দেখা মিলবে?