মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে লড়তে চান এ ডি এম আব্বাস আল কোরেশী। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ফাইনাল ইয়ারে অধ্যয়নরত আছেন।
কোরেশীর আক্ষেপ ঢাবির আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে, গণরুমে পচতে থাকা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন নিয়ে। তার মা-এর ইচ্ছে, ছেলে যদি কখনও এমন অবস্থায় যায়, যেখান থেকে এসবের পরিবর্তন সম্ভব, তবে যেন কোরেশী এগুলোর পরিবর্তনের জন্য কাজ করে।
আব্বাস কোরেশী বলেছেন তার প্রথম বর্ষের গণরুমে শুয়ে থেকে করা আক্ষেপের কথা, এই নিয়ে তার মায়ের ইচ্ছের কথাও জানান তিনি। আব্বাস কোরেশী বলেন, ‘আমার অ্যাটাস্ট পড়ে শহীদুল্লাহ হল। প্রথম বর্ষের প্রথমদিককার সময়েই আমি হলে উঠি। উঠেই পরিচিত হলাম ‘গণরুম’ নামের নতুন এক বিষয়ের সাথে।
একসাথে ত্রিশ-চল্লিশজনের বসবাস একটা রুমেই। মানবেতর! ঠিকঠাক পড়াশোনা দূরে থাক, রাতের ঘুমটা নিয়েও চিন্তার শেষ ছিলো না। মা-কে শেয়ার করেছিলাম বিষয়গুলো। কেঁদেছিলাম প্রচুর। ফোনের ওপাশ থেকে মা শুধু বলতেন, কোনও সময় সম্ভব হলে তুই এসব পরিবর্তনের চেষ্টা করিস’

খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় জন্ম নেয়া আব্বাস কোরেশী দায়িত্বপালন করেছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-র নৌ শাখার সাবেক ক্যাডেট আন্ডার অফিসার হিসেবে। কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাথে।
ভিপি পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন তিনি। নির্বাচিত হলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্বাস কোরেশী বলেন, আমি এই ঢাবি ক্যাম্পাসকে একটি ডিজিটালাইজ্ড ক্যাম্পাসে পরিণত করতে চাই। প্রশাসনের সহায়তায় আমি এটি করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।
‘ডিজিলাইজড্ ক্যাম্পাস’-এর স্বরূপ জানতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি লাইব্রেরি নিয়ে কাজ করবো। অ্যানালগ সিস্টেমে চলা এই লাইব্রেরীকে ডিজিটালাইজড করবো। আমি রেজিস্টার বিল্ডিং-এ ছাত্রদের ওপর কর্মচারীদের বেআইনি-অসঙ্গত-অসৌহার্দপূর্ণ আচরণ করা বন্ধ করার চেষ্টা করবো। চেষ্টা করবো অনলাইনে করার কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে।’
নির্বাচনের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে আব্বাস কোরেশী বলেন, আমি আমার জায়গায় সৎ আছি। আমি ছাত্রদের জন্য কাজ করতে চাই, ঢাবির জন্য কাজ করতে চাই। ভালো কিছু আসার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।